প্রতিশ্রুত  জলবায়ু তহবিলের বকেয়া ১০০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের দাবি

0

কামাল হোসেন, দুবাই থেকে/- জলবায়ু তহবিলে প্রতিশ্রুত বকেয়া ১শ’ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি দাবি জানিয়েছে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ধনী দেশগুলোর প্রতি বছর ১শ’ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ধনী দেশগুলোকে বিগত বছরগুলোর সেই বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন স্থলে সংবাদ সম্মেলন এই দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা ইক্যুইটিবিডি’র আমিনুল হক।

বক্তৃতা করেন সিএসআরএল’র জিয়াউল হক মুক্তা, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’র মো. শামসুদ্দোহা, অ্যাওসেডের শামীম আরফিন, প্ল্যাটফর্ম অন ডিজাস্টার ডিসপ্লেসমেন্ট-পিডিডি’র অ্যাটলে সোলবার্গ, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল-এনআরসি’র সামাহ হাদিদ এবং এশিয়া প্যাসিফিক মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এপিএমডিডি’র লিডি ন্যাকপিল প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে আমিনুল হক প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, এই চুক্তিতে কার্বন উদগীরণ কমানোর মনিটরিং এবং রিপোর্টিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পর্যায়ক্রমে শূন্য নির্গমন লক্ষ্য অর্জনের পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলিকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুসরণ করতে হবে।

১.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। অবশ্যই ১শ’ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ক্রমবর্ধিত বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। ডিসকোর্স অফ নিউ অ্যান্ড কালেক্টিভ ফাইন্যান্সকে অতি ঝুঁকিপুর্ণ দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং ঋণ-বহির্ভূত পদ্ধতি দিয়ে তৈরি করতে হবে। ন্যাপ বা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাকে গ্লোবাল গোল অন এডাপটেশনের অংশ করতে হবে।

সিপিআরডি’র শামসুদ্দোহা প্রশমনের বর্তমান প্রক্রিয়াটিকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করেন এবং তিনি বাধ্যতামূলক সময়সীমাসহ দীর্ঘমেয়াদী প্রশমন কৌশল প্রণয়নের গুরুত্বের উপর জোর দেন, যা কম কার্বন নির্গমনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই দায়বদ্ধতার আওতায় নিয়ে আসবে। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য নির্গমন নিশ্চিত করার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকবে। তিনি সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক ফলাফলের ভিত্তিতে ১.৫-ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যের সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

লিডি ন্যাকপিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পাবলিক ফাইন্যান্স সংকটের আবর্তে আছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা এবং এগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই বেসরকারি খাতের ওপর তাদের অত্যধিক নির্ভরতা বন্ধ করতে হবে।

 

এই নির্ভরতা ধারাবাহিকভাবে খুব কমই কাজে লাগছে এবং প্রায়ই বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। আমাদের জরুরি ভিত্তিতে সরকারি অর্থায়নের ওপর নজর দিতে হবে যা ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্য এবং সকলের মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দেবে।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বিষয়ে কপ প্রেসিডেন্সির বিবৃতির জোরালো বিরোধিতা করার জন্য অতি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান জিয়াউল হক মুক্তা। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্সির এই বিবৃতি জলবায়ু বিজ্ঞানের মৌলিক প্রেক্ষাপটের সাথে সাংঘর্ষিক।

এদিকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ্ । এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানিয়েছেন আগামী প্রজন্মের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে সৌর শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের প্রসারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৬১.৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

গত রোববার (৩ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন,  এসব কথা বলেন। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, গত বছর আমাদের জ্বালানি মিক্সে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযুক্ত হয়েছে। ৩৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৪০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলমান রয়েছে। অধিকন্তু ৫০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও ৫০০০ মেগাওয়াট অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জমির সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, সোলার হোম সিস্টেম, মিনি গ্রিড, সৌর সেচ এবং সোলার রূপটপের মাধ্যমে বাংলাদেশ সৌর প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি অনুমোদিত সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৩-এ আইএসএ-এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। যেখানে ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক ৫০.৪ ট্রিলিয়ন ওয়াট আওয়ার পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে প্রতিবেশী দেশগুলো হতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের কোনো বিকল্প নেই।

আলোচনা অনুষ্ঠানে আইএসএ’র মহাপরিচালক ড. অজয় মাথুরসহ সদস্য দেশসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.