At last news on first everyday everytime

নওয়াপাড়ার সন্ত্রাসি ও চাঁদাবাজ কালাম মাঝি এখন ঢাকার ঠিকাদার

0

অভয়নগর(যশোর) প্রতিনিধি/- হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আবুল কালামের পিতা আমির আলী গাজী ভৈরব নদীতে ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যদিও বর্তমানে তিনি নৈশ প্রহরীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন। দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া শেখা হয়নি কালামের।প্রকৃত নাম আবুল কালাম। বাড়ি অভয়নগর উপজেলার ভৈরব তীরবর্তী শংকরপাশা গ্রামে।

ছোট বেলা থেকেই পিতার সাথে শুরু হয় মাঝির জীবন। ১৩/১৪ বছর বয়স থেকেই মাঝি কালাম নামে পরিচিতি লাভ করে এলাকায়। ট্রলার চালানোর সুবাদে সে প্রায়ই যেতে হতো সুন্দরবন এলাকায় গোলপাতা আনতে। গোলপাতা আনা নেয়ার এক পর্যায়ে সে জড়িয়ে পড়ে চোর চক্রের সাথে। সুন্দরবন থেকে গোলপাতার সাথে গরাণ ও সুন্দরী কাঠ চুরি করে এনে বিক্রি করা শুরু করে কালাম। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের সন্তান কালামকে পেয়ে বসে রাতারাতি মোটা অংকের টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্নে। এরমধ্যেই যাত্রা শুরু করে বন্দর নগরী হিসেবে নওয়াপাড়া। ঘাটে ঘাটে সার বোঝাই ট্রলার, কার্গো। গোডাউনে বা খোলা আকাশের নিচেও আমদানিকারকরা সার, খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন পণ্য স্তুপ করতে থাকে । চোখ পড়ে যায় কালামের। গড়ে তোলে চোর চক্র। বিভিন্ন কায়দায় ট্রলার,গোডাউনসহ বন্দর এলাকা থেকে চুরি করতে থাকে সার, সিমেন্টসহ নানাবিধ পণ্য। দেখতে না দেখতে খেতাব পেয়ে যায় চোর কালাম নামেও। তবে এতেও মন ভরেনি কালামের। ধীরে ধীরে গড়ে তোলে ডাকাত দল। হাতে তুলে নেয় আগ্নেয়াস্ত্র। মাঝি কালাম ওরফে চোর কালাম নেমে পড়ে ট্রাকসহ মালামাল লুট করতে ।ওই সময় খেতাব বেড়ে ডাকাত কালাম নামে পরিচিতি লাভ করে সে। ফলে প্রকৃত নাম আবুল কালাম হলেও এ নামে তাকে এলাকার কেউ চেনেন না। মাঝি কালাম, চোর কালাম বা ডাকাত কালাম নামেই এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি। পুলিশসহ প্রশাসনের সকল বিভাগের নজরদারি বেড়ে যায়। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন কালাম বাহিনীর অত্যাচারে। সর্বশেষ গত ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই অভয়নগর থানা ভবন থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে নওয়াপাড়ার বোয়ালমারী ব্রীজ সংলগ্ন জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের ২নং ঘাটের একটি গুদাম থেকে কালাম বাহিনী রাত সাড়ে তিনটার দিকে টিএসপি সার চুরি করে ট্রাকে লোড দেয়। খবর পেয়ে বিশেষ অভিযানে থাকা তৎকালীনের পুলিশের এসআই মাসুদ রানা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করেন। ততক্ষণে চোরাই সার বোঝাই ট্রাকটি পুলিশের সাড়া পেয়ে সার লোড করে যশোর-খুলনা মহাসড়কে উঠে পড়ে। এসময় পুলিশ ধাওয়া করলে ট্রাকটি গতি বাড়িয়ে দেয় এবং চালকের কেবিন থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে বাহিনী প্রধান কালাম। এতে অভয়নগর থানার কনস্টেবল আজগর আলী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন ( যিনি বর্তমানে অভয়নগর থানায় কর্মরত আছেন)। সেই সাথে কনস্টেবল পরিমল চন্দ্র ও আলমগীর হোসেন আহত হন। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ট্রাকের চালক কেবিন থেকে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়। এ সুযোগে ট্রাকে থাকা ডাকাতদলের অন্য সদস্যরাও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে বাহিনী প্রধান আবুল কালাম ওরফে মাঝি কালাম ওরফে চোর কালাম ওরফে ডাকাত কালামকে চালকের কেবিন থেকে হাতেনাতে আটক করে এবং সার বোঝাই ট্রাকটি জব্দ করে। এবং জব্দকৃত ট্রাক থেকে ৫শ’৯ বস্তা চোরাই টিএসপি সার উদ্ধার করে পুলিশ। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে ওই রাতেই অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুলিবিদ্ধ কনস্টেবল আজগর আলীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে আটকের পর কালাম পুলিশের কাছে নওয়াপাড়া বন্দরে চুরি, ছিনতাই, লুটপাটসহ নানা অপকর্মের কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় ডাকাতি ও কর্তব্যরত পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগে পৃথক ধারায় এসআই মাসুদ রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৬, তাং ১৬-০৭/২০০৫ ইং। ধারা- ৩৩২/৩৩৩/৩৫৩ দঃ বিঃ। পরদিন বাহিনী প্রধান কালামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে এই মামলায় জামিনে বের হয়ে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও পুলিশ এ্যাসাল্টসহ একাধিক মামলার আসামি আবুল কালাম ওরফে মাঝি কালাম ওরফে চোর কালাম ওরফে ডাকাত কালাম প্রায় একযুগ আগে এলাকাছাড়া হয়।

যশোর-৪ আসনের বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতার মদদপুষ্ট হয়ে বিস্তার ঘটায় ঠিকাদারি ব্যবসার। গড়ে তোলে মাতৃকা ক্যাসকেড বিল্ডার্স লিঃ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি গোপালগঞ্জ ও নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অভয়নগর থানা পুলিশ ও যশোর ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে চাঁদাবাজ চক্রের বেশ কিছু সদস্য আটক হওয়ার পর আবারও প্রকাশ্যে আসে আবুল কালাম ওরফে মাঝি কালাম ওরফে চোর কালাম ওরফে ডাকাত কালামের নাম। এলাকা ছাড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছদ্মবেশে ঘুরে ঘুরে গড়ে তোলে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। রাজধানীতে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ছত্রছায়ায় কালাম ওরফে মাঝি কালাম ওরফে চোর কালাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় করে তোলে। আর এ সকল অপকর্ম থেকে নিজেকে আড়াল করতে শুরু করে নামমাত্র ঠিকাদারী ব্যবসা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.