হিসাব করলে সময় সর্বোচ্চ আধাঘণ্টা!

0

স্পোর্টস ডেস্ক/- উইম্বলডনের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিলেন বিশ্বসেরা দুই তারকা রজার ফেদেরার এবং নোভাক জকোভিচ।অন্যটি হচ্ছে লন্ডন গ্রাঁ প্রিঁ। গতির দুনিয়ায় এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে শিরোপা লড়াইয়ে নেমেছিলেন ফর্মুলা ওয়ানের বিশ্বসেরা এবং জনপ্রিয় তারকা লুইস হ্যামিল্টন।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়েছে ১০ দেশকে নিয়ে। উইম্বলডনে সারা বিশ্বের নামকরা কয়েকশ’ টেনিস তারকা অংশ নেন। টেনিসের বিশ্বকাপখ্যাত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে যখন ফেদেরার আর জকোভিচ মুখোমুখি হন, তখন তো ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালও ম্লান হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে ক্রিকেট!

ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে এর আবেদন এবং উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি। তবুও লর্ডসের ফাইনাল নিয়ে উপমহাদেশে যতটা আগ্রহ-উদ্দীপনা ছিল, তার ছিটে-ফোটাও ছিল না স্বাগতিক ইংল্যান্ডে। এমনকি তারাই কি-না আবার অন্যতম ফাইনালিস্ট।

england_30_2লন্ডন গ্রাঁ প্রিঁ’র অবস্থা শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল জানা নেই। কারণ, ফর্মুলা ওয়ান বাংলাদেশের এতটা জনপ্রিয় নয়। তবে, টেনিসের জনপ্রিয়তা আছে। বিশেষ করে ফেদেরার, নাদাল, জকোভিচ, সেরেনা, শারাপোভা, হালেপ, কিংবা অ্যান্ডি মারে- এদের ভক্তকুলের সংখ্যাও কম নয়। গ্র্যান্ড স্লাম হলে তো কথাই নেই। কে জিতলো, কে হারলো এ খবর রাখে অনেকেই। টিভি মিডিয়ার কারণে, উইম্বলডনের প্রচুর দর্শকও রয়েছে বাংলাদেশে।

এ কারণে সংবাদকর্মী হিসেবে লর্ডসের ফাইনালের পাশাপাশি চোখ রাখতে হয়েছিল লন্ডনের সেন্টার কোর্টেও। সেখানে যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন ফেদেরার আর জকোভিচ। সাড়ে ৫ ঘণ্টার লড়াই। লর্ডস ফাইনালের সঙ্গে সমানতালে এগিয়েছে উইম্বলডনে পুরুষ এককের ফাইনালও।

লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে মাত্র ২৪২ রানের লক্ষ্য বেঁধে দিল নিউজিল্যান্ড। মামুলিই ভেবেছিল সবাই। কিন্তু যারা ফাইনাল পর্যন্ত উঠে এসেছিল তাদের বোলিং শক্তি দিয়ে, তারা ২৪২-কেও করে তুলতে পারে পাহাড় সমান। লর্ডস ফাইনালে সেটাই দেখা গেলো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে ইংল্যান্ড ২৪২ রান করতে যেয়ে হেরেই গিয়েছিল প্রায়। ভাগ্যটা খুব বেশি ভালো বলেই হয়তো বেঁচে গেছে।

মূলতঃ লর্ডসে স্নায়ুর টানটা বেশি লেগে গিয়েছিল একেবারে শেষ দুই ওভারে। ১২ বলে প্রয়োজন ২৪ রান। টানটান উত্তেজনা। প্রতিটি বলেই যেন রচিত হচ্ছিল এক একটি ড্রামা। প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল। তৃতীয় বলে ফিরলেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। পরের বলেই জিমি নিশামকে ছক্কা মেরে ম্যাচ পুরোপুরি জমিয়ে তুললেন স্টোকস।

পঞ্চম বলে সিঙ্গেল রান এবং শেষ বলে জোফরা আরচারকে বোল্ড করে দিলেন নিশাম। ম্যাচ আবারও হেলে পড়ে নিউজিল্যান্ডের দিকে। কিন্তু ইংল্যান্ডের আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বেন স্টোকস। শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৫ রান। তুমুল উত্তেজনা। প্রচণ্ড আবেগ ভর করেছে তখন লর্ডসের পুরো গ্যালারিতে।

দুই দলই সময়ক্ষেপণ করলো। বোলার এবং ফিল্ডাররা নানা শলা-পরামর্শ করলো। পরিকল্পনা সাজালো। বল তুলে দেয়া হলো ট্রেন্ট বোল্টের হাতে। ডেথ ওভারে সব সময়ই ঘাতক তিনি। অন্যদিকে শলা-পরামর্শ করলেন বেন স্টোকস আর আদিল রশিদ। স্টোকস স্ট্রাইকে। প্রথম দুই বলে কোনো রানই দিলেন না বোল্ট।

england_30_3৪ বলে ১৫- আরও কঠিন হয়ে গেলো ম্যাচ। এমন সময়ই ছক্কা মেরে দিলেন স্টোকস। ম্যাচ যেখানে পুরোপুরি ঝুলে ছিল নিউজিল্যান্ডের দিকে, এক ছক্কায় সেটা চলে এলো সমান্তরালে। এমন পরিস্থিতিতে যে কারও ওপরই প্রচণ্ড স্নায়ুর চাপ পড়ার কথা। সেটা পড়লো নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিলের ওপর। দুই রান বাঁচাতে এবং সরাসরি থ্রোতে রান আউট করতে গিয়ে উল্টো বাউন্ডারি দিয়ে দিলেন তিনি। ছক্কা না পেলেও এই বল থেকে এলো ৬ রান।

নিউজিল্যান্ড ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ওই এক থ্রো’য়ের পরই। তবুও ট্রেন্ট বোল্ট শেষ দুই বলে জয় থেকে বঞ্চিত করেন ইংলিশদের। ম্যাচ হয়ে গেলো টাই। চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে ম্যাচ গড়ালো সুপার ওভারে।

সেখানেও তুমুল নাটকীয়তা। ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে নিলো ১৫ রান। নিউজিল্যান্ডও জবাবে করলো ১৫ রান। ম্যাচ টাই, সুপার ওভারও টাই। কিন্তু বাউন্ডারি মারার ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো ইংল্যান্ড।

লর্ডসে যখন প্রতিটি বলে রচিত হচ্ছিল এক একটি ইতিহাস, তখন সেন্টার কোর্টেও চলছিল ইতিহাসের সেরা লড়াই। সাড়ে ৫ ঘণ্টা লড়াইয়ে শেষ সেট চলছিল তখন।

ফাইনাল সেটে ফেদেরার আর জকোভিচ- কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেননি। দুনিয়া কাঁপানো কিছু সময় ধরে চললো এই লড়াই। হয়তো আধাঘণ্টা। এর মধ্যেই স্নায়ুর উত্তেজনা পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নিলেন ফেদেরার আর জকোভিচ। শ্বাসরুদ্ধকর তুমুল লড়াই চলতে চলতে ১২-১২ পয়েন্ট পর্যন্ত গড়ায় খেলা; কিন্তু কেউই পারছিল না সেট ব্রেক করতে। শেষ পর্যন্ত খেলা আবারো গড়ায় টাইব্রেকারে।

সেখানেই বাজিমাত করেন জকোভিচ। শেষ সেট ১৩-১২ ব্যবধানে জিতে নিজের ১৬তম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা অর্জন করেন এই সার্বিয়ান তারকা।দুই দিকের হিসাবটা দাঁড় করালে সময় হবে সর্বোচ্চ আধাঘণ্টা! এই আধা ঘণ্টা, তথা ৩০ মিনিটেই কেঁপে উঠেছিল সারা বিশ্ব।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.