খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টোল আদায়

মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া-রায়েন্দা ৫ টাকার টোল ৫৫ টাকা

0

আবদুল হালিম দুলাল/- মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া ও শরণখোলার মধ্যে যোগযোগের একমাত্র মাধ্যম বলেশ্বর নদীর বড়মাছুয়া-রায়েন্দা আন্তঃÍবিভাগীয় খেয়াঘাটে যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সাব লীজ গ্রহণকারী ও তাদের লোকজন যাত্রীদের ভয়ভীতি, নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি ও অশালীন ব্যবহার করা হয়। এমনকি যাত্রীদের হাতে থাকা ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের পণ্য বা মালামাল পারাপারের জন্য ৫০/৭০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে।

জানাযায়, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে বাংলা ১৪২৬ সালের জন্য বড়মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়া ঘাটটি ২৪লাখ ৫৫হাজার ৯শ ৪৮ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উপজেলার বড়মাছুয়া ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাইয়ুম হাওলাদার ইজারা পায়। ইজারাদার কাইয়ুম আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে স্থানীয় একটি চক্রের কাছে অবৈধভাবে ঘাটটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় সাব লীজ দেন। খেয়াঘাট সাবলীজ গ্রহীতারা হলেন, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত ফায়ারম্যান সামসুল হক মৃধা, শরণখোলার তৌহিদুল ইসলাম (ডিলার), আবদুল কাদের ও বড়মাছুয়ার মৎস্য আড়ৎদার ফারুক তালুকদার।

ঘাটে যাত্রী সাধারণ, বিভিন্ন যানবাহন ও মালামাল পারাপারের সরকার অনুমোদিত টোল রেট চার্ট সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে দর্শনীয় জায়গায় টানানোর বিধান থাকলেও দু’পারের কোথাও রেট চার্ট টানানো হয়নি। এছাড়াও যাত্রী পারাপারের জন্য ইজারাদারের নিজস্ব ঘাট থাকার বিধান থাকলেও যাত্রীদের চলাচলের ঘাট না থাকায় বিআইডব্লিটিএর সরকারী টার্মিনাল ব্যবহার করতে বাধ্য করছে যাত্রীদের। আর এ কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত ৫টাকা টার্মিনালের জন্য গুনতে হচ্ছে।

সম্প্রতি বড়মাছুয়া খেয়াঘাটে সরেজমিনে যাত্রীরা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন। খেয়ার জন্য অপেক্ষামান উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোজাম্মেল হক (৭০) বলেন, তিনি প্রায়ই এই খেয়া পার হয়ে শরণখোলা আত্মীয়ের বাড়িতে আসা যাওয়া করেন। তাকে টার্মিনাল ভাড়া ৫ টাকা ও খেয়া ভাড়া ৫০ করে মোট ৫৫টাকা দিতে হয়। এর কম দিতে চাইলে ওরা অশালীন ব্যবহার করে।

শরণখোলার বাসিন্দা ও মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী কে, এম, লতীফ ইনস্টিটিউশনের ইংরেজী বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক আয়শা খানম রোজি জানান, আমি মাছুয়া-রায়েন্দা খেয়া পার হয়ে নিয়মিত বাড়িতে আসা যাওয়া করি। সন্ধ্যা নেমে এলে এর অত্যাচারের মাত্রা কয়েকগুন বেড়ে যায়। এছাড়াও যাত্রীদের হাতে থাকা ২/৩ কেজি ওজনের একটি বৈয়াম বা ব্যাগের জন্যও যাত্রীদের কাছ থেকে আরও অতিরিক্ত ৩০/৪০টাকা আদায় করা হয়। তিনি খেয়াঘাটের জুলুম বন্ধে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল তালুকদারের পুত্র  আল আমিন তালুকদার(২৮) জানান, যাত্রীদের প্রতি ২০ কেজি মালে ৮০/১০০ টাকা এবং প্রতি মটরসাইকেল পারাপারের জন্য ১’শ থেকে ১২০ টাকা  এবং একটি ছাগল পারাপারের জন্য ১৫০/২০০ও একটি গরুুর জন্য ৩০০/৪০০ টাকা গুনতে হয়।

এ ব্যপারে সাব-লীজ গ্রহণকারী ফায়ারম্যান শামসুল হক সাব-লীজ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি ইজারাদারের সাথে শেয়ার আছি বলে দাবী করেন।

ঘাটের মূল ইজারাদার কাইয়ুম হাওলাদার তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই দুই পাড়ে যাত্রী ও পণ্য পারাপারের রেট চার্ট টানানো হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের সাথে যোগযোগ করলে তিনি বড় মাছুয়া খেয়াঘাটে ইজারাদারদের সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে সংীশ্লষ্ট কতৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার নির্ধারিত টোল রেট চার্ট টানানো হবে। যাতে পরাপারকারী যাত্রীরা অতিরিক্ত টোল দিতে না হয়।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ঢাকায় ট্রেনিং-এ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা না গেলেও ওই পদে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও আন্তঃবিভাগীয় ফেরি ইজারা কমিটির আহবায়ক সুবাস চন্দ্র সাহা জানান, সরকার অনুমোদিত টোল রেট চার্ট না টানিয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় দ-নীয় অপরাধ। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.