Ultimate magazine theme for WordPress.

‘মুক্ত খালেদাকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো’

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে চারটি বিষয় অবহিত করে চিঠি দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থীতা পাওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বশেষ সময় পর্যন্ত আশাবাদী যে, মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’

তিনি বলেন, ‘যাদের প্রার্থীতা প্রাথমিক পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছে সেগুলো আপিলের কর্মকাণ্ড এখন চলছে। এ কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা হয়েছে আগামী ৮ তারিখ পর্যন্ত। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি এটা ৮ তারিখ পর্যন্ত না নিয়ে ৬ এবং ৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় কি না। অথবা নির্বাচন কমিশনের নিজেরদের বিবেচনা প্রসূত কোনো পদ্ধতিতে অতিদ্রুত সম্পন্ন করা হলে প্রার্থীদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। কারণ ৯ তারিখ হচ্ছে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ তারিখ ৫টা পর্যন্ত যদি এটি চলতে থাকে সেক্ষেত্রে এটি প্রার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তার ও হয়রানি বাণিজ্য এখনো চলছে। গতকালও একজন নারী কমিশনার ও কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। সেটিও অবহিত করেছি এবং এ গ্রেপ্তার বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এবং জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলেছি।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আরপিও’র কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে আমরা বলেছি, এবার যেখানে জোটভূক্ত নির্বাচন করার ব্যবস্থা রয়েছে, জোটের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকই দেয়া হবে। সে একটি প্রতীক দেওয়ার ব্যাপারে জোটভূক্ত যে প্রার্থীরা থাকবেন তাদের একজন চূড়ান্ত হবেন। এক্ষেত্রে বাকিরা যারা থাকবেন তাদেরকে আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতে হবে নাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে যাবে? ওনারা বলেছেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে যাবে। আর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়- এমন কেউ যদি জোটে থেকে থাকেন এবং তাদের মধ্যে যদি কেউ কোথাও আলাদাভাবে জমা দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে এমন প্রার্থীদেরকে নিজেদের চিঠি দিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেই দল থেকে বলে দিতে হবে। সেই দল যদি নিবন্ধিত না হয়। নির্বাচন কমিশন তাদের কথাটা শুনবেন; তাদের ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ব্যাপারে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিবন্ধিত ৮টি দল ছিল। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে যারা নির্বাচন করবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে ১১টি দল হয়েছে। সে সম্পর্কিত একটি চিঠি ওনাদেরকে আমরা আগে দিয়েছিলাম। সেই চিঠিটি ওনাদেরকে আবার দিয়ে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছি। যাতে নির্বাচন কমিশন যে প্রচণ্ড কর্মযজ্ঞের মধ্যে আছে; কোনো ধরণের ত্রুটির কারণে এ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’

এ পর্যন্ত যতগুলো চিঠি দিয়েছেন তার কতগুলোর প্রতিকার পেয়েছেন বা আপনারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাশীল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি যদি আস্থাশীল থাকতাম তাহলে তো সরকারে এখন যারা আছেন, সরকারের প্রতিনিধিদের মতো একমাস পরে একদিন আসতাম। আমাদের তো প্রতিদিনই আসতে হচ্ছে। যেহেতু আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। এবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন, নির্বাচন কমিশন ছাড়া আমাদের অন্য কোনো জায়গা নেই। সুতরাং আস্থা থাকা বা না থাকার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে যে, আমরা যাবো কোথায়? আমাদের তো এখানেই আসতে হবে। সেজন্য আসা।’

আপিল শুনানি যদি তিনদিন হয় তাহলে আপনারা কি রকম সমস্যার সম্মুখীন হবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিটা আমার মনে হয় সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা ওনাদেরকে বলেছি যে, ৬/৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে অথবা ওনাদের নিজস্ব কোনো উদ্ভাবনী চিন্তার মধ্য দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এটা সম্পন্ন করতে। ৮ তারিখ পর্যন্ত না গেলে ভালো হয়।’

প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমাদের যে প্রার্থীরা রয়েছেন বা জোটভূক্ত যে দলগুলো রয়েছে তাদের নিজেদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কিন্তু সব জায়গায় একটিই বাধা। যেটার কথা আমি বলেছি। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে এবং সেখানে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। অনেকেই সময় মতো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পদে পদে তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আরেকটু সময় পেলে বাধাটা অতিক্রম করার সুযোগটা থাকে।’

আপনারা যেহেতু একেক আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছেন এক্ষেত্রে একক প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো সমস্যায় পড়বেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিষ্পত্তি করতে কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা বলেছি এ কারণে যে, মহাসচিব বারবার বলার পরেও কোনো একটি জেলার রিটার্নিং অফিসার তার স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা বৈষম্যের শিকার হতে পারি। আশঙ্কাটা আমাদের মধ্যে রয়েছে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.