Ultimate magazine theme for WordPress.

পূর্ণ হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২১ বছর

0

লাষ্টনিউজ২৪ ডেস্ক/- রক্তে রঞ্জিত পাহাড়ে শান্তির অন্বেষায় পাহাড়ি গোষ্ঠিগুলোর সঙ্গে সরকারের যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তার ২১ বছর পূর্ণ হলো আজ।

এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের চলমান রক্তপাত ও সংঘাত নিরসনে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক উদ্যোগে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি।

সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গঠিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাহাড়ে দিনটি উদযাপনে নানা অনুষ্ঠানমালা চলছে।

প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গড়ে ওঠা এক জনপদ পার্বত্য চট্টগ্রাম। এ অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বর্ণিল জীবনাচার, ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গঠিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।’

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ হয়। অনগ্রসর ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা। ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার অর্জন এই চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্মারক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৪ প্রণয়ন করেছে। পার্বত্য এলাকার নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৪ হাজার পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে এ অঞ্চলের নারী ও শিশুদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে মাতৃভাষার শিক্ষাদানের জন্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় বর্ণমালা সংরক্ষণ এবং নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষাদানের কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার বেইলী রোডে পার্বত্যবাসীর স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে প্রায় ২ একর জমির ওপর ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’নির্মাণ করা হয়েছে।’

বাণীতে তিনি শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.