Ultimate magazine theme for WordPress.

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

0

ক্রিড়া ডেস্ক/- ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন ফলোঅনে পড়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

স্কোর: ৪৬/৪ (১৬ ওভার)। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫০৮, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১১১।

বাংলাদেশের স্বপ্নের সেশন
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটা স্বপ্নের মতো কেটেছে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ইনিংস মিলিয়ে এই সেশনে ৮২ রানে ৯ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ!

সকালে বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানেই। ফলোঅনে পড়েও বাংলাদেশের স্পিনে ধুঁকছে সফরকারীরা।

লাঞ্চ বিরতির সময় দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৬ রান। শাই হোপ ১৮ ও শিমরন হেটমায়ার ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। ইনিংস হার এড়াতে এখনো প্রয়োজন ৩৫১ রান। ২-০ তে সিরিজ জিততে বাংলাদেশের চাই আর ৬ উইকেট।

চেজকে ফিরিয়ে তাইজুলের দ্বিতীয়
আগের ওভারে নিয়েছিলেন সুনীল অ্যামব্রিসের উইকেট। নিজের পরের ওভারে এসে রোস্টন চেজকেও ফেরালেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এক্সট্রা কাভারে মুমিনুল হকের দারুণ এক নিচু ক্যাচে ফেরেন চেজ (৩)। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৯ রান। উইকেটে শাই হোপের সঙ্গী শিমরন হেটমায়ার।

তাইজুলের প্রথম
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দশ উইকেটই ভাগ করে নিয়েছিলেন মিরাজ ও সাকিব। তাইজুল ইসলাম বোলিংই পেয়েছিলেন মাত্র এক ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবার আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। বাঁহাতি স্পিনারের নিচু হওয়া বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন সুনীল অ্যামব্রিস। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। তখন ২৩ রানে ৩ উইকেট নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শাই হোপের সঙ্গী রোস্টন চেজ।

মিরাজের শিকার পাওয়েল
প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন কাইরন পাওয়েলের উইকেট। অফ স্পিনারের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে স্টাম্পড হয়ে ফিরেছেন পাওয়েল (৬)। তখন ১৪ রানেই ২ উইকেট নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। উইকেটে শাই হোপের সঙ্গী সুনীল অ্যামব্রিস।

আবার প্রথম ওভারে সাকিবের উইকেট
প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। মিল আছে আরো, আগেরবার উইকেট পেয়েছিলেন ওভারের শেষ বলে। এবারই তাই। আগেরবার ব্যাটসম্যান ছিলেন ক্রেইগ ব্রাফেট। এবারও তিনিই। আগেরবার ব্রাফেট হয়েছিলেন বোল্ড, এবারই একই ধরনের আউট! ২ রানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারিয়েছে প্রথম উইকেট।
এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি বাংলাদেশের
নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম প্রতিপক্ষকে ফলোঅন করাল বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে ১১১ রানেই অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে সফরকারীরা।

মিরাজের সাতে ১১১ রানেই শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেরমন লুইসকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন লুইস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। এ বছরের জুলাইয়ে কিংসটনে ১২৯ রান ছিল তাদের আগের সর্বনিম্ন স্কোর।

তৃতীয় দিনে এক ঘণ্টাও টেকেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আরো নির্দিষ্ট করে বললে ৫১ মিনিট! আগের দিনের ৫ উইকেটে ৭৫ রানের সঙ্গে এদিন আর ৩৬ রান যোগ করতেই শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে তারা।

আগের দিন ৩ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ এদিন উইকেট নিয়েছেন আরো ৪টি। ৫৮ রানে ৭ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ২৭ রানে বাকি ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৬.৪ ওভারে ১১১ (ব্রাফেট ০, পাওয়েল ৪, হোপ ১০, অ্যামব্রিস ৭, চেজ ০, হেটমায়ার ৩৯, ডোরিচ ৩৭, বিশু ১, রোচ ১, ওয়ারিক্যান ৫*, লুইস ০; মিরাজ ৭/৫৮, সাকিব ৩/২৭)।
মিরাজের প্রথম সাত
নিজের টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নেওয়ার পর এক ওভার বিরতি দিয়ে আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে আঘাত হেনেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার অফ স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন শেন ডোরিচ। ইনিংসে এটি মিরাজের সপ্তম উইকেট।

টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট পেলেন মিরাজ। এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের পর বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ইনিংসে সাত বা এর বেশি উইকেট পেলেন তিনি।

২০০৫ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এনামুল ৯৫ রানে ৭টি, ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব ৩৬ রানে নিয়েছিলেন ৭টি উইকেট। আর ২০১৪ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুলের ৩৯ রানে ৮ উইকেট বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং।

রোচকে ফিরিয়ে মিরাজের ষষ্ঠ
নিজের টানা তৃতীয় ওভারে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার তার শিকার কেমার রোচ। অফ স্পিনারকে উড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ইনিংসে এটি মিরাজের ষষ্ঠ উইকেট।

রোচ ১ রান করে ফেরার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৯২ রান। উইকেটে শেন ডোরিচের সঙ্গী জোমেল ওয়ারিক্যান।

মিরাজের পাঁচ উইকেট
আগের ওভারেই ফিরিয়েছিলেন শিমরন হেটমায়ারকে। নিজের পরের ওভারে এসে দেবেন্দ্র বিশুকেও ফেরালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্পিনারকে কাট করতে চেয়েছিলেন বিশু। সিলি পয়েন্টে দারুণ এক ক্যাচ নেন সাদমান ইসলাম। ইনিংসে এটি মিরাজের পঞ্চম উইকেট।

বিশু ১ রান করে ফেরার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৮৮ রান। শেন ডোরিচের সঙ্গী কেমার রোচ।
দিনের শুরুতেই মিরাজের উইকেট
মেহেদী হাসান মিরাজের আগের বলে শিমরন হেটমায়ারের বিপক্ষে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশ নেয়নি রিভিউও। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বাংলাদেশ রিভিউ নিলে উইকেট পেতে পারত। তবে উইকেট পেতে এক মিনিটও অপেক্ষায় থাকতে হয়নি মিরাজকে। অফ স্পিনার নিজের পরের বলেই পেয়েছেন উইকেট। তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সেই হেটমায়ারই।

দিনের চতুর্থ ওভারে ৫৩ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন হেটমায়ার। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৬ উইকেটে ৮৬ রান। উইকেটে শেন ডোরিচের সঙ্গী দেবেন্দ্র বিশুর।

বাংলাদেশের স্পিনে বিপদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ব্যাট-বলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। প্রথমে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে ৫০৮ রানের পাহাড়ে তোলেন মাহমুদউল্লাহ। এরপর সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন বিষে নীল হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং। ২৯ রানেই ৫ উইকেট হারানোর পর ইনিংস মেরামতের চেষ্টায় আছেন শিমরন হেটমায়ার ও শেন ডোরিচ।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৭৫ রান। হেটমায়ার ৩২ ও ডোরিচ ১৭ রান নিয়ে রোববার তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন। এখনো ৪৩৩ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারীরা।মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে নয়টায়

দ্বিতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৫৪ ওভারে ৫০৮ (সাদমান ৭৬, সৌম্য ১৯, মুমিনুল ২৯, মিথুন ২৯, সাকিব ৮০, মুশফিক ১৪, মাহমুদউল্লাহ ১৩৬, লিটন ৫৪, মিরাজ ১৮, তাইজুল ২৬, নাঈম ১২*; বিশু ২/১০৯, রোচ ২/৬১, ওয়ারিক্যান ২/৯১, চেজ ১/১১১, লুইস ১/৬৯।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪ ওভারে ৭৫/৫ (ব্রাফেট ০, পাওয়েল ৪, হোপ ১০, অ্যামব্রিস ৭, চেজ ০, হেটমায়ার ৩২*, ডোরিচ ১৭*; মিরাজ ৩/৩৬, সাকিব ২/১৫)।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.