‘খালেদা অবশ্যই নির্বাচন করতে পারবেন’ কোনো আইনি বাধা নেই

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘অবশ্যই নির্বাচন করতে পারবেন’ এবং এতে কোনো ‘আইনি বাধা নেই’ বলে মনে করে তার দল।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে নজির হলো আপিল করেই নির্বাচন করা যাবে। কারণ আপিলকে ধরা হয় চলমান বিচারের অংশ। আপিল বিভাগের রায় আছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কে যোগ্য বা অযোগ্য সেটা ঠিক করবে ইসি। আর সেখানে যদি কোনো সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে তখন তা কেবল উচ্চ আদালতে আসতে পারে।’

‘অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন, তা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার শামিল। এমনকি তার বক্তব্য আপিল বিভাগের রায় দ্বারা সমর্থিত নয়। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী যেকোনো রিটার্নিং অফিসার বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা দিতে পারেন। আইনে তাতে কোনো বাধা নেই।’

‘খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না’-বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে দেশবাসি স্তম্ভিত ও হতবাক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো মামলায় দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন এবং তাতে তিনি স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু সেই বিষয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেননি। আদালত আপিল গ্রহণ করেছেন কিন্তু কোনো প্রকার শুনানি হয়নি, আদালত কোনো প্রকার রুল বা আদেশ দেননি। তাহলে তিনি কিভাবে বললেন, বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

‘অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করতে চাই মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিচারিক আদালতে সাজা হলেও, আপিল চলমান অবস্থায় তারা নির্বাচন করেছেন কিভাবে?”

রিজভী বলেন, ‘সাবজুডিশ বিষয়ে নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট বক্তব্য রেখে তিনি সংবিধান ও আদালতের অবমাননা করেছেন। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে অবশ্যই পারবেন। এ বিষয়ে আইনে কোনো বাধা নেই।’

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মাঝে শঙ্কা জেগেছে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ ও ইসি’র পক্ষ থেকে এসব বৈঠকের কথা অস্বীকার করা হলেও তথ্যগুলো যে সঠিক এটির বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের রিটায়ার্ড উপসচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে র‌্যাব-২ অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা তার বাসায় আসেন। নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার সাথে ঘণ্টা খানেকের জন্য কথা বলবে বলে গতকাল রাত ১০টার সময় তাকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

‘তার মতো একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে এখনও ফিরিয়ে না দেওয়া সরকারের ভয়ঙ্কর বার্তা। এই ঘটনায় সারা দেশে জনপ্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।’

নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে অবিলম্বেও তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন রিজভী।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.