‘ষড়যন্ত্র করে বেগম জিয়ার প্রার্থিতা আটকে দিলে কঠোর পরিণতি’

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- খালেদা জিয়া যাতে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন সেজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন কূটকৌশল ও ফন্দিফিকির করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র করে বেগম জিয়ার প্রার্থিতা আটকে দেওয়ার কঠোর পরিণতি নির্বাচন কমিশনকে ভোগ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানা কূটকৌশল ও ফন্দিফিকির অব্যাহত রেখেছে সরকার। নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে মিথ্যা সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি সরকার, এখন উচ্চ আদালতকে ব্যবহার করছে।’

‘গতকাল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে অবজারভেশন দেওয়া হলো- উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা স্থগিতের কোনো বিধান নেই। মূলত, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই তড়িঘড়ি করে সরকারের মেকানিজমে এরকম একটি আদেশ দেওয়া হলো,’ বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ মহাসচিব।

অতীতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচন করার নজির আছে, জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীর দণ্ডিত হয়েও সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া, দণ্ডিত হয়ে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বীরদর্পে মন্ত্রিত্ব করে যাচ্ছেন। সুতরাং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন হতে দূরে রাখার সকল কূটকৌশল থেকে সরে না আসলে এর ফল শুভ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পরও সংসদ সদস্য পদ আপিল করে বহাল থাকার দৃষ্টান্ত এ দেশে আছে।’

সরকারবিরোধী প্রচারণা এড়াতে নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করছে, অভিযোগ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘পর্যবেক্ষকদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমকে কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, কেন্দ্র থেকে যেকোনো অনিয়ম-সংঘর্ষ-ভোট ডাকাতির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে ২৪ ঘন্টা মনিটরিংয়ের নামে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মূলত, সরকারের সকল অপকর্ম ঢাকতেই নির্বাচন কমিশনের একের পর এক এই কঠোর নীতিমালা। এসব নীতিমালা নিঃসন্দেহে একতরফা নির্বাচন আয়োজনেরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ বলে জনগণ মনে করে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকার সারা দেশে রিটার্নিং অফিসারদেরকে টয়োটা এলিয়েন গাড়ি গিফট করেছে, যে গাড়ির মূল্য ৩৫ লক্ষ টাকা। এটা নির্বাচনকে সরকারের অনুকূলে প্রভাবিত করার জন্য রিটার্নিং অফিসারদেরকে উৎকোচ দেওয়া। আমরা এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার চলছেই। এছাড়াও দলটির নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালাচ্ছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.