Ultimate magazine theme for WordPress.

সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় রাখতে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ

0

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক /- বাংলাদেশে বিদ্যমান সামাজিক শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহাসিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখতে আন্ত:ধর্মীয় সংলাপ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।


তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও জঙ্গিবাদের মোকাবিলায় প্রগতিশীল চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় বৌদ্ধ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সবুজবাগে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ অবস্থিত ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অনুষ্ঠিত কঠিন চীবর দান ও জাতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মিলিত রক্ত স্রোতের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। বিশ্ব দরবারে বর্তমানে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল হিসেবে পরিচিত। এদেশে সব ধর্মের অনুসারীরা নিজ নিজ ধমর্, স্বাধীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করছে। ধর্মের ভিত্তিতে এখানে কোনো ধরনের বঞ্চনা বা বিভক্তির সুযোগ নেই। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বৌদ্ধ ধর্মকে জ্ঞানের ধর্ম উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু বলেন, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সংঘের অধীন ধর্ম ও জ্ঞান চর্চা করে বৌদ্ধ দর্শন ও চিন্তাকে সমাজে ছড়িয়ে দেন। তারা যুগে যুগে সংস্কৃতি, সভ্যতা ও মানবতার সেবায় গৌরবময় বাতিঘর হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখেছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সাথে হাজার বছর ধরে মিশে আছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কঠিন চীবর দানোৎসব বৌদ্ধ ধর্মীয় সংকৃতির এক অনন্য সাধারণ পর্ব। এর মাধ্যমে ধৈর্য ও সাধনার এক বিশেষ প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। এর থেকে সাধনা ও ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন আলোকিত করা সম্ভব। তারা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় গুরু শুদ্ধানন্দ মহাথের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.