Ultimate magazine theme for WordPress.

বাঁশগাড়ী ও নিলক্ষায় সংঘর্ষে নির্খোঁজ ২ জনের লাশ উদ্ধার

0

নরসিংদী থেকে সংবাদদাতা /- নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ও নিলক্ষায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পৃথক সংঘর্ষের পর নিখোঁজ দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তাদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে কাউছার (৩৫) ও রাজনগর এলাকার হয়রত আলীর ছেলে আবদুল হাই (২৮)। তারা বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সিরাজুল হকের সমর্থক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গত শুক্রবার সকালে রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রয়াত চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের অনুসারী কবির সরকারের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হাফিজুর রহমান শাহেদ সরকারের অনুসারী জাকির হোসেনের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতে তোফায়েল হোসেন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।

ওই দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিলক্ষা ইউনিয়নেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের অনুসারী ছমেদ আলীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের অনুসারী শহিদ মেম্বারের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রথমে তাজুল ইসলামের সমর্থক সোহরাব হোসেন ও পরে আবদুল হক সরকারের সমর্থক স্বপন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়।

ওই সংঘর্ষের দিন থেকে বাঁশগাড়ীর বালুয়াকান্দি এলাকার কাউছার ও রাজনগর এলাকার আবদুল হাই নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের লোকজন দাবি করে আসছিলেন। সংঘর্ষের পরদিন শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নিখোঁজ দুই জনের টেঁটাবিদ্ধ ছবি দেখে তাদের সনাক্ত করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তাদের খোঁজ পাচ্ছিলেন না তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চরমধুয়া ও নিলক্ষার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে মাছ ধরার ঘেরে লাশ দুটি ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই জনের লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শিপন মিয়া নামে এক স্বজন নিহতদের লাশ সনাক্ত করেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন বলেন, মেঘনা নদী থেকে দুই জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের লোকজন তাদের কাউছার ও আবদুল হাইয়ের লাশ হিসেবে সনাক্ত করেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.