Ultimate magazine theme for WordPress.

ইভিএম ব্যবহার হলে সরকার ও ইসির বিরুদ্ধে মামলার হুমকি ঐক্যফ্রন্টের

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এক সেমিনারে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এ হুমকি দেন।

‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এতে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘কনস্টিটিউশন ভায়োলেশন হবে ইভিএম ব্যবহার করলে। সংবিধানের বিরোধিতা হবে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ, সাংবিধানিক অপরাধ। এটা যদি নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে ব্যবহার করতে যায়, আমরা আমাদের নেতা সংবিধানপ্রণেতা আইন বিশেষজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

নির্বাচনে ইভিএম প্রতিরোধ করা হবে বলেও জানান জোটটির এই শীর্ষ নেতা।

আ স ম আবদুল রব বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। প্রত্যক্ষ ভোটের একটি প্রধান শর্ত যে, ভোট প্রদান থেকে শুরু করে সর্বশেষ ভোট গণনা পর্যন্ত সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়া জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকতে হবে।’

বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যাব, জাতি নির্বাচনে যাবে। সেই নির্বাচনকে অবশ্যই জনগণের রায়ে পরিণত করতে জনগণ সেই লড়াই সেই যুদ্ধে লড়বে, ভোটের যুদ্ধে লড়বে। সেখানে কোনো কিছুই তাদেরকে আটকিয়ে রাখতে পারবে না।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ইভিএমের এই রকম প্রেজেন্টেশন সব জায়গায় করা দরকার। এতে মানুষ আরো সাহসী হবে। মূলত আমাদের দরকার মানুষকে সাহসী করে তোলা।’

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ভোটের দিন ভোটের মাঠে ভোট দিতে যান। এবার স্লোগানটা দিতে হবে- নিরাপদ ভোট চাই, নিরাপদ ভোট কেন্দ্র চাই। আমরা একটা শঙ্কামুক্ত, প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন চাই। এই নির্বাচনের জন্য আমরা আমাদের দাবি উপস্থাপন করেছি।’

গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, জনগণের ভোট ডাকাতি করা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভোট ডাকাতির পরিণতি হবে ভয়াবহ। এজন্য জনগণ এই সরকারকে কখনোই ক্ষমা করবে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও  বিজ্ঞান-প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুর পরিচালনায় সেমিনারে  গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকীব, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের এ এইচ এম কামরুজ্জামান খাঁন, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের এম এন শাওন সাদেকী, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নুর হোসাইন কাশেমী, মুফতি মো. ওয়াক্কাস, মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জাতীয় লীগের সৈয়দ এহসানুল হুদা, পিপিবির শামসুল হক  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.