LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

হাঁটার গ‌তি‌তে গা‌ড়ি চল‌ছে ঢাকা-ময়মন‌সিংহ মহাসড়‌কে

0

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘আলম এশিয়া’ পরিবহনের বাসটি। বিকেল ৪টা বেজে গেলেও বাসটি রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকাই পেরোতে পারেনি।

সোমবার বিকেলে কলকারখানায় ঈদের ছুটি শুরুর পর যে যানজট শুরু হয়েছিল, ২০ ঘণ্টা পর সে চিত্র বদলায়নি। অন্যাান্য বছর ঈদযাত্রায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টঙ্গী থেকে যানজট শুরু হলেও এ বছর ঢাকা থেকেই যানজট। থেমে থেমে গাড়ি চলছে। নয়ত যানজটে একেবারেই আটকা পড়ছে। পুরো পথেই আগের দিনের মতো গাড়ির তীব্র চাপ।

ঢাকা থেকে ১১৩ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ যেতে স্বাভাবিক সময়ে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগলেও ঈদযাত্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগছে বলে সমকালকে জানিয়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

মহাখালী থেকে ১১৩ কিলোমিটারের দূরের ময়মনসিংহ যেতে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা লাগছে। অথচ চার লেনের এ মহাসড়কে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগার কথা।

ঈদুল আযহার আগের দিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কজুড়ে যানজটে নাকাল হয়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর-জয়দেবপুর অংশে চলছে বাস র্যা পিড ট্রানজিটের নির্মাণ কাজ। তাতে ক্ষতবিক্ষত সড়ক।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সপ্তাহখানেক আগে আড়াই কোটি টাকায় খানাখন্দ ভরাট করা হলেও যানজটে নিরসনে তা কোনো ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ যাত্রী ও চালকদের।

ময়মনসিংহগামী একজন যাত্রী সমকালকে সেই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সুস্থ মানুষ ঘন্টায় পাঁচ কিলোমিটার গতিতে হাঁটতে পারেন। ঠিক একই গতিতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে চলছে গাড়ি। সকাল ৯টায় মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে রওনা করা বাস সাত ঘণ্টায় বিকেল ৪টায় পৌঁছেছে ৩৫ কিলোমিটার দূরের সালনা বাজারে।’

এবারের ঈদযাত্রায় অন্যান্য দিনের মতো সোমবারও পিকআপ, ট্রাক, মাইক্রোবাস ভর্তি করে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। কোনো যানবাহনের যাত্রীরাই স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানছিলেন না। তাদের অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না, কারও মাস্ক ছিল থুতনির নিচে।

বাসগুলোতে একটি আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করার কথা থাকলেও পরিবহন শ্রমিকরা তা মানছেন না।

টঙ্গীর তারগাছায় ‘ইমাম’ পরিবহনের বাসে দেখা যায় সব আসনেই যাত্রী।

বাসের চালক বলেন, ‘মানুষ যাইতেই পারতাছে না! আবার অর্ধেক সিট খালি!’

যানজটের কারণে অনেক বাস ঢাকায় না ফিরে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঘুরে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা যাচ্ছে।

বাসের চালকরা বললেন, চৌরাস্তা থেকে ঢাকায় আসতে,যেতে ১০ ঘণ্টা লাগছে। এর চেয়ে কম সময়ে চৌরাস্তা থেকে গন্তব্যে গিয়ে আবার ফিরে আসছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। টঙ্গী থেকে হেঁটে,পিকআপে বা ট্রাকে চেপে তারা চৌরাস্তায় আসছেন।

ভোগড়া বাইপাসে আদল গায়ে শিশুকে কোলে নিয়ে যানজটে নিশ্চল গাড়ির সারিরে ফাঁকে হাঁটতে দেখা যায় আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবককে। কাঁদতে থাকা শিশুটিকে শান্ত করার চেষ্টা করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তিনি জানালেন, শিশুটির তার ছেলে। পিকআপে করে নেত্রকোনা যাচ্ছেন। যানজট ও তীব্র রোদে গরম সইতে না পেরে বাচ্চা কাঁদছে। তাই হেঁটে গায়ে বাতাস লাগাচ্ছেন।

পিকআপে সওয়ার হওয়ার আরেক যাত্রী আমিনুল জানান, বাসে ভাড়া জনপ্রতি ৫০০ টাকা। তাই স্ত্রীকে নিয়ে পিকআপে ২০০ টাকায় জয়দেবপুর যাচ্ছেন। সেখান থেকে বাসে যাবেন।

যানজট নিরসনে পথে জয়দেবপুর মোড় ছাড়া কোথাও পুলিশের খুব একটা তৎপরতা দেখা যায়নি। অন্যােন্যক বছর স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউটরা থাকলেও এবার তাদেরও দেখা যায়নি।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ কমিশননার জাকির হাসান সমকালকে বলেন, রাস্তায় যাানজট নেই। গাড়ি ও যাত্রী  চলাচল বাড়ায় ধীরগতি রয়েছে।কোথাও যেনো গাড়ি আটকা না পড়ে সে জন্যল নিরলস কাজ করছে পুলিশ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy