LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

রসিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

0

ডেস্ক রিপোটঃ ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী। নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি নিয়ে হয়েছেন তত্ত্বাবধারক প্রকৌশলী। এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বাক্ষর জাল করে টেন্ডার নথি পরিবর্তনসহ একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় আঙুল ফুলে হয়েছেন কলাগাছ। এমনই অভিযোগ রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

এমন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব তদন্তে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি মেয়রের অনুমোদন না নিয়ে অনৈতিকভাবে ৫টি প্যাকেজে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে কোন যান্ত্রিক প্রকৌশলীকে অন্তর্ভূক্ত করেননি। শুধুমাত্র তার মনোনীত পূর্ত প্রকৌশলীকে দিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেছেন। কেন তিনি এই বেআইনি কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন তার ব্যাখ্যা চেয়ে গত ১৮ এপ্রিল এমদাদ হোসেনকে চিঠি দেন বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান। এছাড়া সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় তা তদন্ত করার জন্য এমদাদ হোসেনকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর আগে সেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তিনি এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবেদন দাখিল না করায় তাকে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন মেয়র।

শুধু তাই নয়, এমদাদ হোসেন দুর্নীতির মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের টাকা নয়ছয় করে টাকার পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নামে বেনামে রয়েছে তার ঢাকা ও রংপুরে কয়েকটি ফ্লাট ও প্লট। এ কারণে তিনি সকলের নিকট টাকার কুমির হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত পত্রের সূত্রে এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয় জানা গেছে। দুদকের দেওয়া গুরুত্বপুর্ণ ওই চিঠির একটি  আমাদের কাছে রয়েছে।

দুদকের পাঠানো ওই পত্রে সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্পের সকল কাগজপত্র অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে মেয়রের কাছে তলব করা হয়।

দুদকের দেওয়া পত্রের সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন ক্ষমতার দাপটে চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এসব অনিয়মের ঘটনায় ভুক্তভোগী কয়েকজন দুদক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্পের দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি সাবেক প্রয়াত মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর স্বাক্ষর জাল করে সকল টেন্ডারের নথি পরিবর্তন করে গুরুতর অপরাধের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সাবেক মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে টেন্ডার নথি পরিবর্তন করার সাথে জড়িত তৎকালিন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ এখন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। সেই জাল করা টেন্ডার নথিতে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছে আকতারের হোসেনেরও স্বাক্ষর। তাই তিনিও ফেঁসে যেতে পারেন এই টেন্ডার স্বাক্ষর জাল করা কাণ্ডে।

এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুর্নিদিষ্ট আরও অনেক অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ২১০ কোটি টাকা, বিভিন্ন সড়কের পুনর্বাসন ও উন্নতি প্রকল্পের ২৫ কোটি, সড়ক বাড়ি স্থাপনের ৪৯ কোটি, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ও অবকাঠামো ও ড্রেন কাম ফুটপাত নির্মাণে ৬০ কোটি টাকাসহ একাধিক প্রকল্প রয়েছে।

গত ২৯ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত পত্রে রংপুর সিটি করপোরেশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব কাগজপত্র তলব করা হয়।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মানসি বিশ্বাস মোবাইল ফোনে জানান, অভিযোগের বিষয়ে গত ২১ এপ্রিল রেকর্ডপত্র নিয়ে দুদক অফিসে আসার কথা থাকলেও করোনার অজুহাতে তারা হাজির হননি। এজন্য আবারও কাগজপত্র ও রেকর্ডপত্র প্রেরণের জন্য দ্বিতীয় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেয়রের কাছে দুদক চিঠি দিয়ে কাগজপত্র চেয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে আমি আর কিছুই জানি না । তবে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে সিটি করেপারেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা দুদকের ফাইল তলবের কথা স্বীকার করে বলেন, যেসব ফাইল ও কাগজপত্র তারা চেয়েছেন তার সবকিছু আমরা রেডি করেছি। শিগগিরই তা পাঠানো হবে। কারও বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy