LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

‘বক্তব্য দেয়ার মতো আর কিছু শব্দ আসছে না’

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- সরকার মাঝে মাঝে কিছু ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে ইউএনওর যে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে তা পূর্ব পরিকল্পিত। দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে সেটাকে ধামাচাপা দিতেই এ পরিকল্পনা করা হয়ছে।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে ইতিহাস বিকৃত করে নাটক বানানোর প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইনের প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘আপনি নারী-শিশু নির্যাতন বিরোধী আইন করেছেন এটা হচ্ছে লোক দেখানো। সরকার মাঝে মাঝে এ রকম কিছু ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করে। নারী নির্যাতন বিরোধী যে প্রচলিত আইন আছে সেই আইনেই তো সাতটি ধারা আছে মৃত্যুদণ্ডের। আপনি মনে করেছেন আবার নতুনভাবে মৃত্যুদণ্ডের আইন করে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করবেন। বিদ্যমান যে আইন ছিল সেটারই তো এতদিন প্রয়োগ হয়নি। কারণ ইউএনও ডিসি-এসপিরা আপনাদের কথার বাহিরে একচুলও এদিক-ওদিক নড়ে না, যদি যেত তাহলে দেশে আইনের শাসন থাকত।

রিজভী বলেন, ‘বক্তব্য দেয়ার মতো আর কিছু শব্দ আসছে না। এ সরকারের একের পর এক অপকর্মে নতুন কোনো শব্দ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। এই সরকার উচিত-অনুচিত ইথিকসের ধার ধারে না, এসব ব্যাপারে কী আর বলবো।’

সভ্য দেশ হলে কোনো সরকারের সময়ে যদি এত অনাচার ঘটে তাহলে সে পদত্যাগ করত। এই পদত্যাগটা আওয়ামী লীগের বিধানে নেই। আওয়ামী লীগের রক্ত লোহার মত শক্ত, এ রক্ত কখনো পদত্যাগ করে না।

সিভিল প্রশাসন পুলিশের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ আওয়ামী লীগের দ্বারা আপনারা উৎপীড়িত অত্যাচারিত এই কথা কাউকে বলতে পারছেন না। এই অভিযোগ আপনারা কারও কাছে দিতে পারছেন না। কারণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়রা আপনাদেরকে ধমক দিচ্ছে। আপনারা ভীতুর মতো সেখানে নতজানু হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখুন দেশে যত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। একটার পর একটা এম সি কলেজের ঘটনার পরের দিনই সিলেট ছাত্রলীগ এক নারী সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে। তারা নিজেরাই তো একের পর এক অপকর্ম করছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছেন সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার জন্য। আজ সাংবাদিক এবং যারা সোশ্যাল মিডিয়া অপারেট করে তারা কারাগারে। উনার লোকেরা অপরাধ করতে উৎসাহিত হচ্ছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না। নিক্সন চৌধুরী সেই পরিবারের একজন আত্মীয় তো বটেই সে যেভাবে ধমক দিচ্ছে ওই ডিসি উত্তর দিতে পারছে না। একজন অপরাধ করেছে সে জন্য গ্রেফতার হয়েছে। আর এ গ্রেফতারের জন্য কি ধমক, এমন হুমকিতে প্রশাসন একেবারেই কাচুমাচু হয়ে গেছে। কই, কেবিনেট তো কোনো ব্যবস্থা নিল না। কেবিনেট সেক্রেটারি সচিব কোনো ব্যবস্থা নিল না। পারবে না, কারণ ওনারাই তো অফিসার্স ক্লাবে বসে মিটিং করে অপরাধ করেছে। আজ প্রশাসন, কেবিনেট সেক্রেটারিরা নির্বাক। কিছুই বলার নেই কারণ আওয়ামী লীগের পক্ষে তারা যে অপরাধ করেছে সে জন্য তাদের কিছুই বলার নেই। বলার যদি কিছু থাকতো তাহলে দেশে আজ এত অরাজকতা হতো না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy