LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বগুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা

0

বগুড়া থেকে সংবাদদাতা/- বগুড়ার ধুনটে যমুনার প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে। এখন সেই পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ইঁদুরের গর্ত এবং দুর্বল অংশ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ায় বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। লোকালয় অংশের চেয়ে নদীমুখ অংশের পানি প্রায় ৮ ফুট উচ্চতায় প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে দুর্বল বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১২টায় যযুনার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বৃহস্পতিবার দুপুরে । গত শনিবার দুপুরে চলতি মৌসুমে বগুড়ায় প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে যমুনা নদীর পানি।

এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে স্রোতও বেড়েছে। প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরসহ বগুড়া জেলার ধুনট, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সোনাতলা, শেরপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বগুড়া জেলার উত্তরে সোনাতলা ও দক্ষিণে ধুনট উপজেলা। মাঝে সারিয়াকান্দি। হিংস্র যমুনার পানি ঠেকাতে বগুড়ার এই তিন উপজেলায় যমুনার পূর্বপাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এখন ধুনট অংশে বাঁধের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, বাঁধের একাধিক পয়েন্টে ঈঁদুর গর্ত করেছে। ওইসব পয়েন্ট দিয়ে পানি চুইয়ে অপর পাশে যাচ্ছে। এ কারণে সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে। বাঁশের পাইলিং করে বালি ভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত পানির লেভেল আর না বাড়লে বাঁধটি রক্ষা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পানির লেভেল আরও বেড়ে গেলে বাঁধ রক্ষা করা দুরূহ হবে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র গতির স্রোত বাঁধের পূর্বাংশে নিচ থেকে মাঝ বরাবর প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারছে। ক্রমেই সেই ধাক্কার মাত্রা বাড়ছে। এতে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে চিড় দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি চলে আসছে বাঁধের পশ্চিম প্রান্তে। সঙ্গে বাঁধের বালুও বেরিয়ে আসায় গর্তগুলো ক্রমেই বড় হচ্ছে। ফলে বাঁধে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তদের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। পাশাপাশি বাঁধের পশ্চিম প্রান্তে গড়ে ওঠা জনপদের লোকজনও আতঙ্কে দিন পার করছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, বগুড়ার তিন উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। ইঁদুরের অসংখ্য গর্তের পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা, ছাতিয়ানতলা, সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ও কামালপুর এবং ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি, বানিয়াজান ও কৈয়াগাড়ি এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে ১৬ জুলাই রাত থেকে পানি চুইয়ে ঢুকতে শুরু করে। পানি আটকাতে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে।

 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy