LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা আদালতে স্বীকার সাহেদের

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন মো. সাহেদ করিম ওরফে সাহেদ।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফির আদালতে রিমান্ড শুনানিতে সাহেদ নিজের এ অপকর্মের কথা স্বীকার করেন। তবে আদালত বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাহেদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার জাহানের আদালত তাকে গ্রেফতারের আদেশ দেন।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী ধৃতিমান আইচ বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের মামলায় মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম আজ। আদালত আবেদন গ্রহণ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে আরও একটি আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এছাড়াও সাহেদ করিম নিজ মুখে এই টাকা লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন।’

রিমান্ড আদেশের আগে মামলার বাদী সাইফুদ্দিন হোসেন বলেন, তিনি আদালতের কাছে এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান যাতে এইভাবে সরকারের ভাবমূর্তি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে আর কেউ যেন কখনো প্রতারণা করতে না পারে।

তিনি বলেন, ‘কারও মিথ্যা পরিচয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেন এসব প্রতারকের ক্রীড়ানকে পরিণত না হয়, সে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে অন্তত এরপর আরও এক সাহেদ করিমের জন্ম হবে না।

সাইফুদ্দিন হোসেন আরও বলেন, আমার যা গেছে গেছে কিন্তু আমি চাই যে, করোনাকালে মানুষের জীবন-মৃত্যু নিয়ে এই প্রতারক সাহেদ যে ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছিল তার যেন সুষ্ঠু বিচার হয়।

এর আগে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের অর্থ আত্মসাতের মামলায় হাজিরার জন্য আজ দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাহেদকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় রুট পারমিট পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরস থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা হয়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেগা মোটরসের আমদানি করা থ্রি-হুইলার ঢাকা সিটিতে চলাচলের রুট পারমিটসহ চলাচলের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নিয়ে দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ জন্য সাহেদ করিম মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকা অ্যাভিনিউ গেট শাখার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নগদ ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

একই বছরের ২৫ জানুয়ারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার মাধ্যমে চার লাখ ৭৫ হাজার, ৩০ জানুয়ারি পাঁচ লাখ, ১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ লাখ, ১৩ ফেব্রুয়ারি ছয় লাখ, ১৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি দুই লাখ টাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই লাখ টাকা, ৫ মার্চ এক লাখ টাকাসহ মোট ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সাহেদ করিম।

এছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি ১৮ লাখ, ৮ ফেব্রুয়ারি ছয় লাখ, ২০ ফেব্রুয়ারি এক লাখ ও ৭ মার্চ সাত লাখ টাকা মেসার্স মেগা মোটরসের অফিসে এসে নগদ গ্রহণ করেন রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।

বিভিন্ন লোকজনের নাম ভাঙিয়ে মোট ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ মেগা মোটরসকে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা একটি পরিপত্রের ফটোকপি দেন সাহেদ করিম। সেখানে ২০০টি সিএনজি থ্রি-হুইলারকে ঢাকা সিটিতে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ ছিল। পরে বিআরটিএতে যোগাযোগ করলে পরিপত্রের ফটোকপিটি ভুয়া বলে জানতে পারেন মেসার্স মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy