LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

নিবু নিবু আশাটা আবার জাগিয়ে তুলেছেন বোলাররা

0

খেলাধুলা ডেস্ক/-  প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের সপ্তম উইকেট জুটি সেই স্বপ্নই দেখাচ্ছিল। তাদের ১২৬ রানের জুটি যে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছিল ৬ উইকেটে ২৮১ রানে। কিন্তু এরপরই হঠাৎ এক ঝড়ে সব এলেমেলো। ৩৩ বল আর ১৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থামে ২৯৫ রানে। তাতে জেগে উঠা আশাটা ফিকে হয়ে যায়। তবে শেষ বিকালে নিবু নিবু আশাটা আবার জাগিয়ে তুলেছেন বোলাররা।

আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, আবার আশার সলতেটা জ্বেলেছেন দলের তিন স্পিনার নাঈম হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। ব্যাট হাতে অলআউট হওয়ার পর শেষ বিকালে ২১ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি বোলাররা। তাতেই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ উ্ইকেট তুলে নিয়েছেন তারা। ৩ উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয়রা দিন পাড়ি দিয়েছে ৪১ রান করে।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছে ২৯৫। ফলে প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা পেয়েছে ১১৪ রানের লিড। এর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসের ৪১ মিলিয়ে ক্যারিবীয়দের লিডটা বেড়ে হয়েছে ১৫৫ রানের। তাদের হাতে রয়েছে আর ৭টি উইকেট। স্কোরকার্ডের এই চিত্রটা স্পষ্টভাবেই আশা দিচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে সেই আশার বাতি জ্বালাতে হলে কাল ক্যারিবীয়দের বাকি ৭ উইকেট দ্রুতই তুলে নিতে। সেটা পারলেই কেবল চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্যটা বাংলাদেশের সাধ্য সীমায় থাকবে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়রা যে ৩টি উইকেট হারিয়েছে, সেই ৩টি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের তিন স্পিনার মিলে। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নাঈম, মিরাজ ও তাইজুল। বল হাতে উইকেট সাফল্যের শুরুটা নাঈম হাসানের হাতে। যিনি প্রথম ইনিংসে ছিলেন উইকেটশূন্য। নিজের দ্বিতীয় ওভারের (ইনিংসের চতুর্থ ওভার) তৃতীয় বলেই ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাফেটকে বিদায় করেন তিনি। ব্রাফেট আউট হয়েছেন দলীয় ১১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৬ রান করে।

এর একটু পরই শাইনি মোসেলিকে (৭) ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যে উইকেটটির মধ্যদিয়ে মিরাজ গড়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের পক্ষে দ্রুততম সময়ে ১০০ উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ড। ক্যারিয়ারের ২৪তম টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের আর মাত্র ৩ জন টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ রফিক। এদের মধ্যে ১০০ ছুঁতে তাইজুলের লেগেছে ২৫ টেস্ট, সাকিবের ২৮ টেস্ট এবং রফিকের লেগেছিল ৩৩ টেস্ট। উল্লেখ্য, ১০০ ছোঁয়া ৪ জনের মধ্যে একমাত্র মেহেদী হাসান মিরাজই ডানহাতি।

মিরাজের এই উইকেট উৎসবের পর তাইজুলও দেশবাসীকে এনে দেন আনন্দের উপলক্ষ্য। দিনের একেবারে শেষ সময়ে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন জন ক্যাম্পবেলকে। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন ক্যাম্পবেল। এরপর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা জোমেল ওয়ারিকানকে নিয়ে আরও ২ রান যোগ করে দিন শেষ করেছেন এনক্রুমাহ বোনার।

দ্রুত ৩ উইকেট নিলেও বাংলাদেশের এখনো উইকেটে রয়েছেন বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠা এনক্রুমাহ বোনার।

চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে এবং মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে বাংলাদেশিদের দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছেন তিনি। সেই এনক্রুমাহ বোনার অপরাজিত আছেন ৮ রান নিয়ে। তার সঙ্গী ওয়ারিকান ব্যাট করছেন ২ রানে।

এর আগে বাংলাদেশকে ২৯৫ পর্যন্ত টেনে নিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনে মিলে সপ্তম উইকেটে ১২৬ রানের জুটি গড়ে প্রথমে দলকে ফলোঅন শঙ্কা থেকে বাঁচিয়েছেন। পরে টেনে তুলেছেন তিনশ’র কাছে। তবে শেষ পর্যন্ত দুজনেই নিজেদের উইকেট বিসর্জন দিয়েছেন। আউট হয়েছেন অপ্রয়োজনীয় শট খেলে। উইকেট বিলিয়ে দেওয়ারর আগে লিঠন দাস করেছেন ৭১ রান, মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ৫৭ রান। বাংলাদেশের পক্ষে অন্য হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকও ৫৪ রান করার পর নিজের উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy