LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন’

0

ষ্টাফ রিপোর্টার/- সরকারের উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। তাহলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় স্মরণ মঞ্চের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল স্মরণে শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মানুষ হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেল? না। দেশে অনাচার থাকলে, দুর্নীতি থাকলে, সুশাসনের অভাব থাকলে এটা ঘটানো হয়। এসব জিনিস নিজে থেকে ঘটছে তা নয়, এটা ভারত উপলক্ষ সৃষ্টি করছে। যাতে আমাদের এখানে তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘দেখেন কত দ্রুত একটা আইন করে ফেলল, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি। এটা কোনো উপায় হতে পারে না। এটা পথকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া। আসলে এর প্রতিকার কী? এর প্রতিকার হলো ন্যায়বিচার। এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভুল কাজ করছে। ফাঁসি অত্যন্ত একটি ভুল কাজ। এর চেয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। ন্যায়বিচার কোনো কঠিন কাজ না। দ্রুত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করলে ১৫ দিন বা সাত দিনের মধ্যেই যারা ধর্ষক তাদের ৮০ শতাংশ ধরা পড়বে। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গঠন করে বিচার করেন। যারা ধরা পড়বে না তাদের জন্য আলাদা মামলা করেন। তাহলে দেখবেন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে দিনের নির্বাচন রাতে হয়েছিল। সেই নির্বাচনের পর বিএনপির ৭০ জন প্রার্থী মামলা করেছিলেন। সেই মামলার জন্য একদিনও কোর্ট বসেনি। বিচারপতিরা তাদের বিবেকের কাছে এর জবাব কী দেবেন? কিন্তু তাদের কাজ হলো অপরাধীদের মুক্তি দিয়ে দেয়া। যারা নির্দোষ তাদের আটক করে রাখা, কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘোরানো।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে শুধু খারাপ কাজ করেছেন তা নয়, তিনি ভালো কাজও করেছেন। তাহলে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে দেখেন না। জনগণের কাছে গিয়ে বলবেন, আমি ফাঁসি এনেছি। এই ফাঁসির পক্ষে জনগণ যদি আপনাকে ভোট দেয় তাহলে মনে করব আমরা ভুল ছিলাম। উনি সঠিক ছিলেন। কিন্তু উনি (শেখ হাসিনা) জানেন আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে উনি ক্ষমতা হারাবেন। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। জনগণ যদি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে দেশ কল্যাণকর হবে। যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।’

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা রাস্তায় নামুন। আমি হাঁটতে পারি না। আপনাদের সাথে চলতে না পারলেও আপনাদের পেছনে থাকব।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে আজান দিলে কেউ শুনবে না। সত্যিকারের ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা আপনাকে সম্মান করবো। বঙ্গবন্ধু যে ভুল করেছিলেন আপনি সেই ভুল করবেন না। বঙ্গবন্ধুর অনেক গুণ ছিল, কিন্তু অন্যের কথায় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। ন্যায়ের পথে চলেন। দেশে কোনো কিছু ঘটলে তার জন্য কিন্তু জনগণ দায়ী থাকবে না।’

সংগঠনের সহ-সভাপতি লায়ন আলামীনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি উলফাত আজিজ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy