LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

‘দল বদলাতে পারব না অথচ পারিশ্রমিক সিকিভাগ’

0

বিশেষ প্রতিনিধি/- নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু করতে সাধারণত ক্লাবগুলোর হ্যাঁ বা না-র দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় বাফুফের প্রফেশনাল লিগ কমিটিকে। এবার ক্লাবগুলোর সঙ্গে ফুটবলারদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মৌসুম শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে তাই লিগ কমিটিকে কয়েক দফা আলোচনা করতে হয়েছে ক্লাব ও ফুটবলারদের সঙ্গে।

তবে আলোচনা করেও গত ১৭ সেপ্টেম্বর লিগ কমিটি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সমস্যা সমাধান হয়নি, বরং বেড়েছে। এটা মিটমাট করতে না পারলে ঘরোয়া মৌসুম শুরু করা অনিশ্চিত হতে পারে।

দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে লিগ কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মূলত ক্লাবগুলোর স্বার্থই বেশি রক্ষা করেছে। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ লিগ কমিটি গড়া ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি নিয়েই। সেখানে তো ফুটবলারদের প্রতিনিধি নেই। যে কারণে লিগ কমিটির সর্বশেষ সভার সিদ্ধান্ত একপেশে হয়েছে বলেই মনে করেন ফুটবলাররা।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০১৯-২০ মৌসুম পরিত্যক্ত হয়েছে মাঝপথে। ফেডারেশন কাপের পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একেকটি দলের ৫-৬টি করে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্থগিত হয়। পরে ক্লাবগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে মৌসুম বাতিলই করে দেয় লিগ কমিটি।

মৌসুম বাতিল হওয়ায় বাফুফের সামনে বড় ইস্যু ছিল ২০১৯-২০ মৌসুমের দেনা-পাওনা মিটমাট করা। বাফুফের প্রফেশনাল লিগ কমিটি একটা সিদ্ধান্ত দিলেও তাতে খুশি হতে পারেননি ফুটবলাররা।

‘মৌসুম পরিত্যক্ত হওয়ার পরই আমরা নতুন মৌসুম শুরুর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলাম। কিন্তু লিগ কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা আমাদের জন্য হতাশার’- বলেছেন সিনিয়র খেলোয়াড়, জাতীয় দলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা।

লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খেলোয়াড়রা আগের ক্লাবেই থাকবেন। দলবদল করা যাবে কেবল ক্লাবের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে। পরিত্যক্ত মৌসুমের টাকা চুক্তি অনুযায়ী শতভাগই পাবেন ফুটবলাররা। নতুন মৌসুমের রেজিষ্ট্রেশনের আগে গত মৌসুমের ৪১ থেকে ৪৫ ভাগ টাকা পরিশোধ করবে ক্লাবগুলো এবং নতুন মৌসুমের (২০২০-২১) পারিশ্রমিক হবে ২০১৯-২০ মৌসুমের চুক্তির ২৫ ভাগ।

আগের মৌসুমের চুক্তির পুরো টাকা নতুন মৌসুমের রেজিষ্ট্রেশনের আগে পরিশোধ চেয়েছিলেন ফুটবলাররা। নতুন মৌসুমের পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন আগের মৌসুমের পঞ্চাশ ভাগ। ফুটবলাররা মনে করে তাদের এ দুটি দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।

কিছু ক্লাব কর্মকর্তার যুক্তি কোনো ক্লাব মাত্র ৭ ম্যাচ খেলেছে। অথচ তারা আগের মৌসুমের পুরো পারিশ্রমিকই পরিশোধ করবে। ম্যাচের হিসেবে যেতে যান না ফুটবলাররা। এ প্রসঙ্গে আশরাফুল ইসলাম রানার যুক্তি, ‘আমরা তো ম্যাচ হিসেবে চুক্তি করি না। আমাদের চুক্তি মৌসুমের। এমনও ফুটবলার আছেন যারা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। অথচ চুক্তির পুরো টাকাই পান। তাই ম্যাচের হিসাবটা যৌক্তিক নয়।’

বিদেশি ও স্থানীয়দের ক্ষেত্রে নিয়মে বৈষম্য আছে উল্লেখ করে সিনিয়র এ ফুটবলার বলেন, ‘আমরা ক্লাব বদল করতে পারব না। কিন্তু বিদেশিরা পারবে। বিদেশিরা প্রথম দিন থেকেই বেতন পায়, স্থানীয়রা পায় না। দলবদল শুরু হওয়ার আগে আমরা দেড়-দুই মাস ক্লাবে প্রাক-মৌসুম অনুশীলন করি। কিন্তু আমাদের বেতন শুরু হয় রেজিষ্ট্রেশনের পর। আমরা পুরোনো ক্লাবে থাকতে রাজি হয়ে আগের পাওনা পরিশোদের এবং নতুন পারিশ্রমিক পুরোনো চুক্তির ৫০ ভাগের কথা বলেছিলাম। কিন্তু দাবি রাখেনি লিগ কমিটি। আমরা দল বদলাতে পারব না, আবার পারিশ্রমিকও পাব আগের সিকিভাগ। এটা কেমন বিচার হলো?’

তাহলে আপনারা কী করবেন? লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত কি প্রত্যাখ্যান করছেন? উত্তরে রানা বললেন, ‘আসলে এখানে প্রত্যাখানের কোনো বিষয় না। সিদ্ধান্তগুলোয় আমরা খুশি নই। আর ফুটবলারদের অখুশি রেখে মাঠে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে না। আগের মৌসুমের ৪৫ ভাগ পর্যন্ত পরিশোধ করতে বলা হয়েছে নতুন রেজিষ্ট্রেশনের আগে। কিন্তু আমরা তো অনেকে ৮০ ভাগ অগ্রীম নিয়েছি। তাহলে তো ক্লাবগুলো উল্টো টাকা পাবে। এটা সত্য যে, আমরা যখন টাকা পাই তখন সেটা ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিনিয়োগ করি। টাকা হাতে রাখি না। এক বছর হয়েছে খেলোয়াড়রা আর টাকা পায়নি। এখন আমরা চলব কিভাবে? ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। তারপর নতুন কমিটির কাছে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো লিখিত আকারে পেশ করব। আশা করি, নতুন কমিটি বাস্তবসম্মত সমাধান দেবে।’

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy