LastNews24
Online News Paper In Bangladesh

ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

0

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক/- মহাম‌ারি ক‌রোনায় ক্ষ‌তিগ্রস্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খা‌তের উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নি‌র্দেশনায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ খা‌তে জামানতবিহীন ঋণ দি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে। কিন্তু নানা অজুহা‌তে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্যাকেজ থেকে ঋণ বিতরণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

ফলে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের ঋণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি ক‌রা হয়েছে।

বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই সার্কুলারে বলা হয়, সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণকে অধিকতর উৎসাহিত করতে চারটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক পুনঃঅর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

পরবর্তীতে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন ঋণ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কতিপয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘জামানতবিহীন ঋণ’ সংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করছে না। ফলে পুনঃঅর্থায়ন ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান ‘কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ সংক্রান্ত নীতিমালায় বর্ণিত পুনঃঅর্থায়ন প্রদানের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণে ‘একক উদ্যোক্তা’ শব্দাবলী ব্যবহারের কারণে মালিকানার ধরনের অস্পষ্টতার সৃষ্টি হয়েছে।

তাই সিএমএসএমই খাতে ঋণ বা অর্থায়নের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে পূর্বের নীতিমালায় বর্ণিত ‘জামানতবিহীন ঋণ’ সংক্রান্ত নির্দেশনাসহ এ সংক্রান্ত আইনের অন্যান্য সকল নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে। পাশাপাশি ‘কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নীতিমালায় বর্ণিত ‘একক উদ্যোক্তা’ শব্দাবলীর পরিবর্তে ‘একক উদ্যোগ’ প্রতিস্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য, করোনা শুরুর পর থেকে অর্থনীতির ধাক্কা সামাল দিতে বিভিন্ন খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এসব প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য। এক বছর মেয়াদী ঋণের সুদের হার ধরা হয় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ পরিশোধ করবে ঋণ গ্রহীতা এবং সাড়ে ৪ শতাংশ সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।

এমন পরিস্থিতিতে দুমাস সময় বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ঋণ দেয়ার সময় বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বরাবরই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে অনীহা ব্যাংকগুলোর। অথচ করোনা সংকটে প্রণোদনার অর্থ ছোট ব্যবসায়ীদের আগে দেয়া উচিৎ ছিল।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy