‘লুকিয়ে খেলতে যেতাম’

মনিকা চাকমা দাপিয়ে বেড়িয়েছে মধ্য মাঠ। আক্রমণভাগে বল জোগানোর পাশাপাশি গোলও পাচ্ছে। ফিটনেসে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকায় শারীরিক মতায় উন্নতি হচ্ছে তার প্রতিনিয়তই। রাঙামাটির কিশোরী মনিকা চাকমা এখন বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের অন্যতম খুদে তারকা। তাকে নিয়েই দলে বেশি আলোচনা। তার বাবার নিশ্চয় এখন গর্বের শেষ নেই। অথচ একটা সময় বাবার ভয়ে লুকিয়ে ফুটবল খেলতে যেত অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আলো ছড়ানো এই কিশোরী।
প্রথম ম্যাচে এক গোল করানোর পাশাপাশি মনিকা করিয়েছে আরেকটি। যে কারণে ম্যাচসেরাও হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের এই ফুটবলার। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের ডিফেন্ডারদের সামনে অনেকটা ‘বোতলবন্দী’ থাকায় পারফরম্যান্সে হেরফের হয়েছে। তবে তৃতীয় ম্যাচে ফেভারিট ভারতের বিপে মনিকা ছিল অদম্য। তার করা গোলটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। দ্বিতীয়বার ম্যাচসেরা হয়ে এই মিডফিল্ডারের অনুভূতি, ‘দুইবার ম্যাচসেরা, অনেক ভালো লাগছে। আমি আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলে গেছি। তবে বুঝতে পারিনি ম্যাচসেরা হব। থাইল্যান্ডের চেয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে ঢাকায় ভালো খেলছি। ফাইনালেও চেষ্টা করব ভালো খেলতে।’
২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে এএফসির আঞ্চলিক পর্বে ভারতকে দুইবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের অন্যতম সদস্য মনিকা চাকমা। ভারতের বিপে ম্যাচ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘ভারতকে গত বছর হারিয়েছি, এবারও হারালাম। সামনে আরও এগিয়ে যেতে চাই। ঢাকায় আমি গোল পাবো, তখন বুঝতে পারিনি। বল যখন পায়ে তখন বেশ উত্তেজনা ছিল। মনে হচ্ছিল সামনে কেউ নেই। তারপর তো বল পোস্টে। দর্শকদের আনন্দ দিতে পেরেছি, এতেই ভালো লাগছে।’
২০১১ সালে বঙ্গমাতা ফুটবলে রাঙামাটি স্কুলের হয়ে উত্থান তার। পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট মনিকাকে ফুটবল আঙিনায় পা রাখার শুরুতে অনেকটা ‘চুরি’ করে যেতে হতো মাঠে। বাবা খেলাধুলা পছন্দ না করায় ঝুঁকি নিয়েই ফুটবলের সঙ্গে জড়ানো। মেয়ে এখন জাতীয় দলে খেলছে, বাবাও তাই অনেক খুশি। ফুটবল জীবনের শুরুর দিকেই সেই স্মৃতি রোমন্থন করল মনিকা, ‘আমার ভালো লাগে তাই ফুটবল খেলি। বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৬ গোল এখন আমার। বাবার ভয়ে লুকিয়ে ফুটবল খেলার স্মৃতিগুলো এখনও মনে পড়ে। মেসি-নেইমার-মার্সেলোদের খেলা দেখে নিজেকে আরও শাণিত করে যাচ্ছি।’

ভাগ