বর্ণিল উৎসবে উদ্বোধন হলো যশোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তির মিলনমেলা

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ যশোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবে এসে শুক্রবার প্রাণের উচ্ছা¦সে মেতে উঠেছিলেন হাজারো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী। নবীন প্রবীণদের কোলাহলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। চিরচেনা সেই প্রিয় স্কুলে এসে সহপাঠীদের দেখে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকের চোখ থেকে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে যশোর জিলা স্কুল। কুশল বিনিময় ও স্মৃতি রোমন্থন সব মিলিয়ে ছিল উচ্ছ্বাসিত।
২২ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিনের উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার প্রদান এবং প্রাক্তন সিনিয়র ছাত্র ১৯৪১ ব্যাচ মো.নূরুল হুদা, ১৯৪৫ ব্যাচ রিটায়ার্ড লে.কর্নেল কাজী আব্দুর রকীব, ১৯৫০ ব্যাচ গাক্সো স্মিথ কোম্পানির সাবেক বাংলাদেশ প্রধান মনোয়ার হোসেন, ১৯৫১ ব্যাচ আব্দুল বারী চৌধুরী, ১৯৫৯ ব্যাচ দেশের প্রখ্যাত গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, ১৯৬০ ব্যাচ রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শফিয়ার রহমান মলিক, ১৯৬৫ ব্যাচ অ্যাড.নূরুল আমিন, ১৯৬৬ ব্যাচ মো. খেলাফত হোসেন, সাবেক ব্যাংকার ১৯৬৭ ব্যাচ মো.শহিদুল ইসলাম, ১৯৬৮ ব্যাচ অ্যাড.মাহাবুবুর রহমান, ১৯৬৯ ব্যাচ মো. বদরুল আলম, ১৯৭০ ব্যাচ সাবেক হকি খেলোয়াড় আলমগীর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্ররা বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে যশোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উৎসবের বর্ণালী উদ্বোধন করেন। আল কুরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্যে দিয়ে ‘নবীন প্রবীন এক প্রাণ’ ¯োগানে প্রাক্তন ছাত্রদের মিলনমেলার মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই থিম সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
যশোরের কৃতী সন্তান প্রখ্যাত গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের রচনায়, ফরিদ আহমেদের সুরারোপে যশোরের সন্তান শিল্পী মনির খান,অতনু,কৌশিক আর ইমরানের কণ্ঠে ‘জীবন চলার পথে শুধরাতে ভুল, দৃঢ় করে নিতে এই জীবনের মূল, আমরা পেয়েছি সেই বাল্যকালের যশোর জিলা স্কুল’ এই থিম সঙ্গীত উজ্জীবিত করে তোলে প্রাক্তন ছাত্রদের মন-প্রাণ। এরপর বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্ররা একে একে স্মৃতিচারণ করেন। হুইল চেয়ারে এসেছিলেন ১৯৪১ ব্যাচের মো.নূরুল হুদা। তিনি স্মৃতিচারণ করতে এসে আবেগে আপুত হয়ে পড়েন। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে অনেক কথায় বলেন তিনি, তবে বয়সের ভারে ন্যূব্জ হওয়ায় তাঁর অনেক কথায় ঠিকমত বোঝা যায়নি। তবে এইটুকু বোঝা যায় তিনি বলেন, আমি য়শোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তিতে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এখানে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের এক জায়গায় দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। ম্মৃতিচারণ করেন ১৯৪৫ ব্যাচের রিটায়ার্ড লে.কর্নেল কাজী আব্দু রকীব, স্মৃতিচারণ করেন ১৯৫৯ ব্যাচের সৈয়দ আব্দুল নঈম। ১৯৫৯ ব্যাচের ছাত্র প্রখ্যাত গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বলেন তাঁর বাবাও যশোর জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন। শুধু তাই নয় তারা সব ভাই এই স্কুলের ছাত্র। ১৯৬২ ব্যাচের তসদিকুর রহমান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমি অভিভূত, আমি যেন শৈশবে ফিরে গেছি। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ১৯৬৫ ব্যাচের এ.এ.এম জাকারিয়া মিলন বলেন, এবার যশোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তির ্উৎসবে যোগ দিতে আমেরিকা,লন্ডন,কানাডা থেকেও প্রাক্তন ছাত্ররা এসেছেন। স্মৃতিচারণ করতে আসেন ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক’ বুকে পিঠে লেখা শহীদ নূর হোসেনের ছবি তুলে যিনি ইতিহাস হয়েছেন সেই ফটো সাংবাদিক ১৯৭৩ ব্যাচের পাভেল রহমান। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন একটা ক্যামেরা যে কত শক্তিশালী তা আমি আগে জানতাম না। ছোট বেলা স্কুলজীবন থেকেই আমার ক্যামেরা নিয়ে ছবি তোলার ঝোক ছিল। সেই ছবি তোলাটা আমার জীবনসাথী হয়ে গেল। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় লেজার শো । নানা বর্ণের আলোকছটায় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে যশোর জিলা স্কুলের সংপ্তি ইতিহাস। আলোর বন্যা বয়ে যেতে থাকে সমগ্র স্কুল ক্যাম্পাসে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে লেজার শোর আলোর খেলা। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী খুরশিদ আলম, ঐশীর গানের পর আসে ব্যান্ডসঙ্গীত আর্বো ভাইরাস।

ভাগ