জেরুজালেম প্রশ্নে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ৯টি দেশের সমর্থনের নেপথ্যে

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হলেও ৯টি দেশ একে সমর্থন দেয়। আবার ৩৫টি দেশ কোনও পক্ষ অবলম্বন না করে ভোটদান থেকে বিরত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে দেশগুলোর সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দেখে নেওয়ার হুমকি গ্রাহ্য করে কোন ৯টি দেশ সাধারণ পরিষদে বিতর্কিত মার্কিন সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছে? কেনইবা তাদের এই অবস্থান? কীইবা তাদের অসহায়ত্ব? এই প্রশ্নগুলো এখন ঘুরেফিরে সামনে আসছে।
৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদ জারি রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নিয়েছিল আরব দেশগুলো। জেরুজালেম প্রশ্নে যেকোনও সিদ্ধান্ত কার্যকরের আইনি বৈধতা না দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ওই প্রস্তাব তোলা হয়। তবে প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে পরিষদের ১৪ সদস্যের সমর্থন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দেয়। এরপর সাধারণ অধিবেশনের শরণাপন্ন হয়েছে আরব দেশগুলো। সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়। বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে জেরুজালেম প্রশ্নে মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানায় গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পালাই, দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, টোগো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বাদ দিলে বাকি সাতটি দেশের মধ্যে চারটি দেশই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চারটি দেশের মধ্যে তিনটিই একসময় যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ ছিল এবং এখনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে আংশিকভাবে ওয়াশিংটনের শাসনের অধীনে আছে। সেই তিনটি দেশ হলো মাইক্রোনেশিয়া, পালাউ এবং দ্য মার্শাল আইল্যান্ডস।
মার্শাল আইল্যান্ডস প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জারি হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ৫৩ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীনতা পায় মার্শাল আইল্যান্ডস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির করা এক চুক্তিতে ওযাশিংটনকে মার্শার আইল্যান্ডস এর পররাষ্ট্রনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দেওয়া আছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘মার্শাল আইল্যান্ডস এর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ওপর পূর্নাঙ্গ কর্তৃত্ব ও দায় যুক্তরাষ্ট্রের। এই নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাজনিত দায়বোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে মার্শাল আইল্যান্ডস বাধ্য।’
পালাউ রাষ্ট্রটিও প্রশান্ত মহাসাগরের এক গুচ্ছ দ্বীপ নিয়ে গঠিত যা যুক্তরাষ্ট্রের শাসনাধীনে ছিল। ১৯৯৪ সালে দেশটি স্বাদীনতা অর্জন করে। তবে এক চুক্তির আওতায় ৫০ বছর ধরে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুকের তথ্য অনুযায়ী, পালাউয়ে ২১ হাজার ৪শ মানুষের বসবাস। আরেক দ্বীপ রাষ্ট্র মাইক্রোনেশিয়ায় ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ বাস করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল দেশটি। ১৯৮৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘মুক্ত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়’। ওই চুক্তির আওতায় মাইক্রোনেশিয়ার জনগণরা ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এবং সেখানে থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেও চাকরি করতে পারেন তারা। নাউরু যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে না থাকলেও ২১ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশটিতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস একসময় ফিলিস্তিনকে সমর্থন করলেও বৃহস্পতিবার তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদিন তারা জেরুজালেমকে নিয়ে যেকোনও স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
কানাডা ও মেক্সিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশগুলো ভোটদান থেকে বিরত ছিল। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত কয়েক বছরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশে প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে। যারা ভোটদানে বিরত ছিল তাদের প্রশংসা করে নেতাননিয়াহু বলেন, ‘এই অদ্ভূত নাটকে অংশ না নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো এর আগে ফিলিস্তিনের সমর্থনে থাকলেও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের অবস্থানও একইরকম ছিলো। কেনিয়ার মতো উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মতো আফ্রিকান দেশগুলোও ভোটদান থেকে বিরত ছিল। মিয়ানমার ও ফিলিপাইনও বিরত ছিলো ভোটাদান থেকে। ২০১২ সালে তারা ফিলিস্তিনের পক্ষেই ছিল। তবে এশিয়ায় ভারত ও চীন ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েলি প্রভাব বিগত কয়েক বছরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশে প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়েছে। যারা ভোটদানে বিরত ছিল তাদের প্রশংসা করে নেতাননিয়াহু বলেন, ‘এই অদ্ভূত নাটকে অংশ না নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো এর আগে ফিলিস্তিনের সমর্থনে থাকলেও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের অবস্থানও একইরকম ছিলো। কেনিয়ার মতো উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মতো আফ্রিকান দেশগুলোও ভোটদান থেকে বিরত ছিল। মিয়ানমার ও ফিলিপাইনও বিরত ছিলো ভোটাদান থেকে। ২০১২ সালে তারা ফিলিস্তিনের পক্ষেই ছিল। তবে এশিয়ায় ভারত ও চীন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ভাগ