জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদে এ সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ৯টি দেশ। ভোটদান থেকে বিরত ছিল ৩৫ দেশ। ভোটাভুটির আগেই যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়ে বলেছে, এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোকে দেখে নেওয়া হবে। ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির সমালোচনা করেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল’কে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি দম্ভভরে বলেছেন, জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সংস্থায় সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয় আমেরিকা। ফলে এ সংস্থায় তাদের চাহিদা বা প্রত্যাশাও বেশি থাকবে। অথচ তার বদলে এখানে যুক্তরাষ্ট্রকে অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়াকে সংস্থাটিতে মার্কিন বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন নিকি হ্যালি। তিনি বলেন, আমাদের বিনিয়োগের কারণে এখানে আমাদের বাড়তি চাহিদার সুযোগ রয়েছে। এর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখানে যদি আমাদের বিনিয়োগ ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটা আরও উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে হবে। নিকি হ্যালি বলেন, এটা লজ্জাজনক যে জাতিসংঘ ইসরায়েলের সঙ্গে শত্রুতামূলক আচরণ করছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন, আজকে আমরা তিনটি বিশ্বাসের মানুষদের শহর জেরুজালেম নিয়ে কথা বলতে এখানে হাজির হয়েছি। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো তাদের ভোট ও মর্যাদা বিকিয়ে দেবে; এমনটা চিন্তা করা অনৈতিক। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, জাতিসংঘের একটি সদস্য দেশ (যুক্তরাষ্ট্র) সংস্থাটির অন্য সব সদস্যকে শাসিয়েছে। কিন্তু শক্তিশালী পক্ষ হলেই কারও অবস্থান সঠিক হয়ে যায় না। আমাদের বলা হয়েছে, হয় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিতে অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে। কিন্তু তুরস্ক কখনও আল কুদসের (জেরুজালেমের আরবি নাম) বিষয়টি ছেড়ে দেবে না। ফিলিস্তিনিদের কখনও একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। দুনিয়া পাঁচ পরাশক্তির (নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য) চাইতেও বড়। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইয়েমেনের প্রতিনিধি বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির কোনও মূল্য নেই। এর আগে নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে সংস্থাটির সদস্য ১৫টি দেশের ১৪টিই ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। সেখানেও এককভাবেই ইসরায়েলের পক্ষে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নিকি হ্যালি বলেন, জেরুজালেম ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা যেভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে সে বিষয়টি মাথায় রাখবে হোয়াইট হাউস।
বৃহস্পতিবার নিজ দেশের একটি হাসপাতাল উদ্বোধনকালে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘জাতিসংঘ স্বীকার করুক না না করুক, জেরুজালেমই ইসরায়েলের রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে এটা স্বীকার করতে ৭০ বছর সময় লেগেছে। জাতিসংঘেরও একই পথ অনুসরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে তাদের এই ভোটাভুটি প্রত্যাখ্যান করছে। জেরুজালেম আমাদের রাজধানী। সেখানে আমরা স্থাপনা তৈরি অব্যাহত রাখবো।’ এ সময় জাতিসংঘকে ‘মিথ্যার কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন নেতানিয়াহু। সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, আনাদোলু এজেন্সি।

ভাগ