উৎপলের পর মুবাশ্বারও বললেন টাকার জন্য অপহরণ

মুবাশ্বার হাসান সিজারকে টাকার জন্য অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি নিজে। নিখোঁজের ৪৪ দিন পর ফিরে এসে শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন মুবাশ্বার। রাজধানীর বনশ্রীতে নিজ বাসার নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় মুবাশ্বার বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমার পরিচিত কেউ আছে কিনা যে টাকা দিতে পারবে। তবে আমার কাছে সরাসরি কেউ টাকা চায়নি। ওদের (পরিবারের সদস্যদের) কাছে টাকা চেয়েছে।’
মুবাশ্বারকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেখানে টাকা-পয়সা নিয়ে কথা হয়েছিল জানিয়ে মুবাশ্বার বলেন, ‘তারা (যারা তাকে আটকে রেখেছিল) কনভার্সেশন করছে টাকা-পয়সা নিয়ে। আমার কাছে ২৭ হাজার টাকা ছিল, তা নিয়ে নিয়েছে।’ এর আগে সাংবাদিক উৎপল ২ মাস ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে এসে বলেছিলেন, তাকেও টাকার জন্য অপহরণ করা হয়েছিল। মুবাশ্বার আরও বলেন, ‘একটা জিনিস নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ছিল— আমাকে ছাড়বে নাকি মারবে তা নিয়ে। তাদের কেউ একজন মিসিং ছিল, ঠিক আমি জানি না; যেটা নিয়ে স্কেয়ার্ড ছিল তারা।’ তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে অনেক ধরনের ডিসকাসন হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনও একটা ঝামেলা ছিল।’
৭ নভেম্বর অপহরণের দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুবাশ্বার বলেন, ‘আমি আগারগাঁওয়ের ইউএনডিপি ভবন থেকে বের হয়ে উবার নিয়ে রোকেয়া সরণির দিকে যাওয়ার সময় মোবাইলে ব্রাউজ করছিলাম। তখন কয়েকজন গাড়িটা থামায়। বলে, এটা চোরাই গাড়ি, নামেন। নেমে আমি পেছনে অন্য কোনও গাড়ি খুঁজছিলাম। তখন পেছন থেকে কেউ একজন আমার চোখে কিছু একটা মেখে দেয়। তারপর ধাক্কা দিয়ে একটা গাড়িতে তোলে। এরপর একটা কাপড় আমার মুখে ধরে। তখন আমি সেন্স হারাই।’
এর পরের ঘটনা মনে করেন তিনি বলেন, ‘তারপর অনেকণ ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি একটা রুমে বন্দি, পেছনে হাত বাঁধা। ময়লা একটা তোষক, ঘরের জানালা আছে কিন্তু বাইরে থেকে সিল করা। পাশে আরেকটা রুম আছে। চার-পাঁচ জন কথা বলত, শুনতে পেতাম। ওখানেই ছিলাম। হোটেল থেকে মনে হয় ঠাণ্ডা খাবার দিত খাওয়ার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ অনেকদিন পর দিনের আলো দেখলাম।’
ফিরে আসার প্রসঙ্গে মুবাশ্বার বলেন, ‘তারা আমাকে একটা গাড়ির মধ্যে বসায়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা গাড়িটা চলে। চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। পুরো সময়টা আমাকে একজনের কোলে শুইয়ে রেখেছিল তারা। তারপর একসময় নামিয়ে দিয়ে বলে, তুই চলে যা। পেছনে তাকালে মেরে ফেলবো। নেমে দেখি এয়ারপোর্ট রোড। ওখান থেকে একটা সিএনজি নিয়ে বাসায় আসি। আমার কাছে কোনও টাকা ছিল না। সিএনজিওয়ালার ফোন থেকে বাবাকে ফোন দিয়েছিলাম। বাবা গেট খুলে পাঁচশ টাকা নিয়ে এসে সিএনজিওয়ালাকে দেয়।’ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুবাশ্বার বলেন, ‘সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।’ মুবাশ্বারার বোন তামান্না তাসমিন এসময় বলেন, ‘আমার ভাই ফিরে এসেছে, আমরা এতেই খুশি। আমাদের কোনও প্রশ্ন নেই, কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই।’ উল্লেখ্য, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড স্যোসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুবাশ্বার হাসান সিজার গত ৭ নভেম্বর বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার খোঁজ জানতে ঢাকার খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা বাবা। তবে মুবাশ্বার নিখোঁজের পর কোনও মুক্তিপণ বা চাঁদা দাবি করেনি কোনও সংঘবদ্ধ চক্র। নিখোঁজ হওয়ার ৪৪ দিন পর বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি নিজ বাসায় ফিরে আসেন।

ভাগ